স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের খেসারত দিতে হলো ১০ ও ৫ বছরের দুই নিষ্পাপ শিশুকে! ফাইভ স্টার হোটেলে চাঞ্চল্য

বেঙ্গালুরুর একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের তীব্র সন্দেহের বশে নিজের ১০ এবং ৫ বছরের দুই নিষ্পাপ মেয়েকে গলা টিপে খুন করার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ব্যক্তি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম এসজি ইমরান। তিনি বেঙ্গালুরুর নাগাওয়ারা এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে পারিবারিক অশান্তি এবং স্ত্রীর চরিত্রের প্রতি চরম সন্দেহের জেরে এই ভয়াবহ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও হোটেল সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণে প্রকাশ, গত রবিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত এসজি ইমরান তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর ওই অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে প্রবেশ করেন। এরপর সোমবার বিকেল নাগাদ হোটেলের হাউস কিপিং স্টাফেরা ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য দরজায় গিয়ে কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ কোনো প্রতিক্রিয়া না মেলায় হোটেল কর্মীদের সন্দেহ হয় এবং তাঁরা ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে বা হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরের ভেতরে ঢুকেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। হোটেলের বিলাসবহুল বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে দুই শিশুর নিথর ও ঠান্ডা দেহ। আর ঠিক কয়েক মিটার দূরে বাথরুমের ভেতরে গলা কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছটফট করছিলেন অভিযুক্ত পিতা এসজি ইমরান। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

পুলিশি জেরায় এবং প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত ইমরান পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানিয়েছে যে সে নিজেই নিজ হাতে তার দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। জেরায় সে দাবি করেছে, স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং সে কোনোভাবেই চায়নি তার সন্তানরা ওই মায়ের কাছে বড় হোক। এই অন্ধ আক্রোশ ও জেদের বশেই সে প্রথমে দুই মেয়েকে খুন করে এবং পরবর্তীতে নিজের গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বেঙ্গালুরু পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) জিকে মিথুন কুমার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সুনির্দিষ্ট খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের দেওয়া এই প্রাথমিক বয়ানই ঘটনার একমাত্র সত্যতা কি না, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর পারিবারিক অশান্তি, মানসিক অবসাদ কিংবা গোপন আর্থিক লেনদেনের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই আসল সত্যিটা সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভরসাস্থল এক পাঁচতারা হোটেলের ভেতরে এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে গোটা শহর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।