ছাত্র বিক্ষোভে রণক্ষেত্র রাঁচি! পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আজ ঝাড়খণ্ডে ১২ ঘণ্টার সর্বাত্মক বনধ ডাকল বিজেপি

চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড জুড়ে আজ ১২ ঘণ্টার সর্বাত্মক বনধের ডাক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC-CGL) এবং জেপিএসসি (JPSC) পরীক্ষার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিনের দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিধানসভা ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালালে জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে পুলিশের সঙ্গে তাদের এক তীব্র ও ভয়াবহ খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, টিয়ার গ্যাসের শেল এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এই পুলিশি পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে আন্দোলনকারীদের দিক থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে অন্তত ১৪ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।
এই পুলিশি দমনপীড়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্যজুড়ে চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে বর্তমান সরকার রাজ্যের মেধাবী ছাত্রদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো অমানবিক আচরণ করছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি জানানোর অধিকার সবার রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যদিও তাঁর দল কংগ্রেস ঝাড়খণ্ডের বর্তমান শাসক জোটের একটি অন্যতম প্রধান শরিক দল। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা রাহুল গান্ধীর এই অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে পড়ায় এই মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) এবং রাজ্য সিআইডি (CID)। সিআইডি ইতিমধ্যেই এই বিশাল দুর্নীতিকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা জেপিএসসি-র (JPSC) প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার এল খিয়াংতেকে গ্রেফতার করেছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট কুড়িজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্য সরকার কয়েকটি বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করলেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এই ধরনের কোনো অস্থায়ী প্রস্তাব মানতে নারাজ। তাঁরা কঠোর সিবিআই (CBI) তদন্ত এবং শিক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এই উত্তপ্ত ও থমথমে আবহেই অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মহাতোর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে পড়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপির এই সর্বাত্মক বনধের জেরে ঝাড়খণ্ডের স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।