১০ বছরের ছেলেকে ঘরে রেখে উধাও মা! নবি মুম্বইয়ের মহিলার সঙ্গে এ কী করল পুলিশ?

সন্ধেয় বাড়ির কাছের বাজারে রাতের খাবার কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ১৯ জুলাই নবি মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর আর ফেরেননি সাহিদা ফকির। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর স্বামী জুম্মান ফকিরের কাছে মুম্বই পুলিশের চেম্বুর ক্রাইম ব্রাঞ্চ থেকে ফোন আসে এবং ‘অবৈধ অভিবাসী’ সন্দেহে সাহিদাকে আটকের খবর জানানো হয়। এরপর শুরু হয় নথি নিয়ে থানায় দৌড়দৌড়ি। জুম্মানের দাবি, সাহিদাকে জোর করে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে সন্দেহভাজনদের রাখা হচ্ছিল। তাঁর কাছ থেকে খাবারের প্যাকেট, ফোন এবং পরিচয়পত্রও কেড়ে নেওয়া হয়। পুলিশকে সাহিদার জন্মের শংসাপত্র ও পরিচয়পত্র দেখালেও তা যথেষ্ট নয় বলে দাবি করা হয় এবং সাহিদার বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র তলব করা হয়।
জুম্মানের অভিযোগ, চার দিন ধরে থানায় চক্কর কাটার পর ২৩ জুলাই তাঁকে জানানো হয় সাহিদা সেখানে নেই। পরে তিনি জানতে পারেন, সাহিদাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সোনাবাড়িয়া এলাকার একটি স্থানীয় পরিবার সাহিদাকে আশ্রয় দিয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই ঘটনায় সাহিদার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জুম্মানের কাছে ২০০৮ সালের ভোটার পরিচয়পত্র, ১৯৮৮ সালের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপদহ গ্রামের জন্মের শংসাপত্র, স্কুলের শংসাপত্র, বাবার মৃত্যুর শংসাপত্র এবং গোবিন্দপুরে জমির মালিকানার মতো একাধিক শক্তপোক্ত নথি রয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও সাহিদার বাবা-মায়ের নাম নথিভুক্ত ছিল। গোবিন্দপুরের বাসিন্দারাও ৫ অগস্ট জেলাশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে সাহিদাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চও এই অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। গত ২৩ জুলাই সংগঠনের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে আটক, পরিচয় যাচাই এবং বাংলাদেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া অভিযোগ তোলা হয়। সংগঠনের স্পষ্ট দাবি, শুধুমাত্র অন্ধ সন্দেহ বা প্রফাইলিংয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই আইনসম্মত হতে পারে না। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ওই আশ্রয়দাতা পরিবারের উপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জুম্মান দাবি করেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা বাড়িটির উপর কড়া নজর রাখছেন বলে অভিযোগ। এর আগে দিল্লি থেকে সুনালি খাতুন ও তাঁর সন্তানকে বাংলাদেশে পাঠানোর পর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সাহিদার ক্ষেত্রেও এখন একটাই লক্ষ্য—আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।