বয়স কি কেবল একটি সংখ্যা? ৫০-এ পৌঁছেও কীভাবে ত্বকের টানটান ভাব বজায় রেখেছেন সুস্মিতা সেন?

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন তাঁর অনবদ্য ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং ফিটনেসের জন্য সবসময়ই চর্চায় থাকেন। ৫০ বছর বয়সে পা দেওয়ার পরেও তাঁর ত্বকের ঝকঝকে জৌলুস এবং টানটান ভাব দেখে আজও অবাক হন ভক্তরা। তাঁর এই চিরসবুজ তারুণ্যের রহস্য কী? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা সেন তাঁর ফিটনেস এবং স্কিন কেয়ার রুটিন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বয়সের ছাপ ত্বকে পড়তে না দেওয়ার জন্য কোনো জাদুকরী ক্রিম নয়, বরং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই তাঁর মূল চাবিকাঠি। আসুন জেনে নেওয়া যাক সুস্মিতা সেনের তারুণ্য ধরে রাখার সেই বিশেষ গোপন টিপসগুলি:

১. পর্যাপ্ত জল পান ও হাইড্রেটেড থাকা:
সুস্মিতা সেনের মতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায় হলো প্রচুর পরিমাণে জল পান করা। জল শরীরের ভেতরের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড ও সতেজ থাকে।

২. ঘরোয়া ও পুষ্টিকর খাবার (Clean Diet):
বাইরের জাংক ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়ে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ওপর সবসময় জোর দেন সুস্মিতা। তাঁর ডায়েটে থাকে প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। সুষম খাদ্যাভ্যাস যে শুধু শরীরকে ফিট রাখে তা নয়, ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে টানটান রাখতেও সাহায্য করে।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগাসন (Regular Workout):
সুস্মিতা সেনের ফিটনেস রুটিন সকলেরই জানা। নিয়মিত কড়া এক্সারসাইজ, ওয়েট ট্রেনিং এবং যোগাসন করার অভ্যাস তাঁর রক্তসঞ্চালনকে উন্নত করে। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে যায়, যা ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে একটি সুন্দর গ্লো বা দীপ্তি এনে দেয়।

৪. মানসিক শান্তি ও পজিটিভ মনোভাব:
অভিনেত্রীর বিশ্বাস, আপনার মন যেমন থাকবে, তার ছাপ সরাসরি আপনার চেহারায় পড়বে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বকে বার্ধক্যের লক্ষণ (Fine Lines & Wrinkles) দ্রুত ডেকে আনে। তাই ধ্যান (Meditation), ইতিবাচক চিন্তা এবং নিজের ভালোলাগার কাজের মাধ্যমে মানসিক শান্তি বজায় রাখা তাঁরুণ্য ধরে রাখার অন্যতম শর্ত।

৫. স্কিন কেয়ার ও মেকআপ রিমুভ করার অভ্যাস:
সারাদিনের ব্যস্ততা বা শ্যুটিংয়ের পর রাতে ঘুমানোর আগে মুখ থেকে মেকআপ পুরোপুরি তুলে ফেলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। ভালো মানের ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে হালকা কোনো ময়েশ্চারাইজার বা নাইট ক্রিম ব্যবহার না করে তিনি কখনই ঘুমাতে যান না।