চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার অনুমতি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি নাকি বাড়ল জল্পনা?

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার আবেদনে সিলমোহর দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিন সপ্তাহের জন্য তাঁকে শর্তসাপেক্ষে বিদেশযাত্রার অনুমতি প্রদান করেছে। আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশ সফর এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য আগাম তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে তাঁর এই সম্পূর্ণ সফরের বিস্তারিত আইটিনারি বা কর্মসূচির তথ্য শুধুমাত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছেই জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে কেন্দ্রের বা সরকারের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেয় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। শুনানিপর্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন যে, একজন স্বাধীন মানুষের সম্পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে তিনি কোথায় এবং কার কাছে নিজের চিকিৎসা করাবেন, তা নিজে বেছে নেওয়ার। অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করে যুক্তি দেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে পা বাড়ালে ভবিষ্যতে আর দেশে নাও ফিরতে পারেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গও তুলেন তিনি।

অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজুর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন যে, বিদেশে সশরীরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তার বদলে দেশের হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় সমস্ত টেস্ট করিয়ে সেই মেডিক্যাল রিপোর্ট বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এর পরই বিচারপতিরা খতিয়ে দেখেন যে, অন্য কোনো ফৌজদারি বা আইনি মামলায় অভিষেকের বিদেশযাত্রার ওপর কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করা নেই, কেবল একটি নির্দিষ্ট মামলাতেই এই আইনি বাধা রয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি বিদেশে গিয়ে আর ভারতে ফিরে আসবেন না—কেন্দ্রীয় পক্ষের এমন আশঙ্কার কোনো বাস্তব ভিত্তি বা জোরালো প্রমাণ নেই। আদালতের সামনে তিনি জোরালোভাবে যুক্তি পেশ করেন যে, অভিষেকের স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান ভারতেই রয়েছেন এবং তিনি একটি বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত মামলাই মূলত নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরপরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর বিদেশ যাত্রার অনুমতি খারিজ করার নির্দেশ দিলে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই শীর্ষ আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন তিনি।