পরনিন্দা করে কোটিপতি! পাড়ার ফিসফিসানিকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে কিনলেন দুটি বাড়ি!

কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়ম এক অবিশ্বাস্য ও তাক লাগানোর মতো কাণ্ড ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। আমাদের সমাজে পরনিন্দা বা পরচর্চাকে সাধারণত অত্যন্ত খারাপ বা অপরাধের চোখে দেখা হলেও, এই প্রবীণা নারী তাঁর এই অদ্ভুত স্বভাবকে একটি সম্পূর্ণ সমৃদ্ধ ও লাভজনক ব্যবসায় সফলভাবে রূপান্তরিত করেছেন। জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর লেডি ড্যানিয়েলার শেয়ার করা একটি সাম্প্রতিক এবং ভাইরাল সাক্ষাৎকারে মিরিয়ম অকপটে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে তিনি পাড়ার গসিপ ও ফিসফিসানিকে সুচারুভাবে কাজে লাগিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন এবং সেই টাকায় দুটি বিশাল বাড়ি পর্যন্ত কিনে ফেলেছেন।

মিরিয়মের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাঁর বাড়ির বাইরের কৌশলগত অবস্থান, যেখানে তিনি স্থানীয় গুজবের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। নিজেকে একজন পেশাদার ‘চিসমোসা’ বা নারী গুজব রটনাকারী হিসেবে গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান যে, ছোটখাটো বা কম চাঞ্চল্যকর তথ্যের জন্য তিনি ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ কলম্বিয়ান পেসো পর্যন্ত চার্জ করে থাকেন। তাঁর মতে, এলাকার একজন সম্মানিত পরনিন্দুক হিসেবে তিনি পাড়ার অন্দরের সমস্ত গোপন খবর নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। তাঁর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিগুলো যেমন নিখুঁত, তেমনই অত্যন্ত মজাদার ও সূক্ষ্ম। তিনি যেখানেই যান না কেন, সঙ্গে একটি নোটবুক সবসময় রাখেন এবং অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে মানুষের বলা সমস্ত কথাবার্তা তাতে লিখে রাখেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাঁর গল্প বলতে কোনো ভুল হয় না, তেমনই অন্যদিকে দাবির সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণও তাঁর হাতে চলে আসে।

সাক্ষাৎকারগ্রহীতাকে তাঁর বাড়ি ঘুরিয়ে দেখানোর সময় মিরিয়ম একটি বিশাল বুলেটিন বোর্ড প্রদর্শন করেন, যা বিভিন্ন ছবি এবং চাঞ্চল্যকর তথ্যে ভরপুর ছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সমস্ত ছবি ও নথি তাঁর বলা গল্পের নিখুঁত প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে এমন কিছু সংবেদনশীল ছবিও রয়েছে, যেগুলোতে এলাকার কথিত কিছু প্রতিবেশীকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। মিরিয়মের দাবি, অনেক মানুষ তাঁদের গোপন ও অবৈধ সম্পর্ক বা কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে থাকেন। নিজের জীবনের সবচেয়ে লাভজনক ও ব্যয়বহুল গুজবের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর অবিশ্বস্ততার কথা চেপে যাওয়ার জন্য তাঁকে বিশাল অঙ্কের অর্থাৎ সাত লক্ষ কলম্বিয়ান পেসো দিয়েছিলেন।