বিদেশে পালিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না! অভিষেক ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের চরম পদক্ষেপ!

গরু পাচার সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতি মামলায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যুব নেতা বিনয় মিশ্রকে শিকড়সমেত উপড়ে ফেলতে এবার চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সম্প্রতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি প্রক্রিয়াকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করতে দিল্লির সুপরিচিত রাউস এভিনিউ কোর্টের সিবিআই বিশেষ আদালতে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিউজিটিভ’ বা পলাতক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আর্জি পেশ করা হয়েছে আদালতে। আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, আগামী ১৩ আগস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে সিবিআইয়ের এই আবেদনের ওপর চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তদন্তকারী সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২০ সালে যখন কেন্দ্রীয়ভাবে এই মেগা গরু পাচার মামলার এফআইআর ও তদন্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল, ঠিক সেই সময়ই ভারতীয় আইন ও তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে অত্যন্ত সুচতুরভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র। শুধু তাই নয়, ভারতের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সে সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপ রাষ্ট্র ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করে এবং সেই দেশের পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলে। এমনকি নিজের নতুন পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব বদলের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সে ভারতের স্থানীয় দূতাবাসকেও আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক অন্য তথ্য। গোয়েন্দাদের দাবি, বিনয় কাগজে-কলমে ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব নিলেও সে আদতে প্রধানত দুবাই এবং লন্ডনের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে এবং বছরের অধিকাংশ সময়ই সে লন্ডনের মাটিতে লুকিয়ে অবস্থান করে।
সিবিআই সূত্রে আরও জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কূটনৈতিক চ্যানেলকে কাজে লাগিয়ে বিনয় মিশ্রর প্রতিটি পদক্ষেপে অত্যন্ত কঠোর নজরদারি চালিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের যৌথ সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং অপারেশন চালানো হচ্ছে। মামলার মূল গভীরে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের এই দীর্ঘ পাঁচ বছরের সময়সীমায় বিএসএফ, রাজ্য পুলিশের একাংশ এবং একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের গোপন ও অসৎ যোগসাজশের মাধ্যমে গরু পাচার চক্রে প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছিল। সিবিআইয়ের দাবি, এই বিশাল অঙ্কের অবৈধ ও কালো টাকার সিংহভাগই তৎকালীন সময়ে বিনয় মিশ্রের হাত ধরেই মূল প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পকেটে পৌঁছেছিল, যার সপক্ষে গোয়েন্দাদের হাতে ইতিমধ্যে একাধিক অকাট্য তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ এসে পৌঁছেছে।