হবু পুলিশ অফিসারের কাণ্ড! ট্রেনিংয়ে এসেই সহকর্মীদের থেকে ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে অনলাইন বাজিতে সর্বস্বান্ত!

খবর সংগ্রহ, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কঠিন পাঠ নিতে এসে নিজেই জড়িয়ে পড়লেন এক হবু পুলিশ অফিসার। সহকর্মী ট্রেনিদের কাছ থেকে সংগৃহীত লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে অনলাইন বাজি ধরে সব খুইয়ে বসার অভিযোগ উঠল এক প্রশিক্ষণরত পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। পেশাদার পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন অধরা রেখেই এখন আইনি জাঁতাকলে ফেঁসেছেন ওই অভিযুক্ত। প্রতারণার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশে আসার মাত্র দশ দিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর মামলা শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পেরুরকাদা থানার আওতাধীন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। ইউনিফর্ম সংগ্রহের কথা বলে প্রশিক্ষণ নিতে আসা সহকর্মীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে সাত লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন অভিযুক্ত। এরপর সেই সম্পূর্ণ অর্থ অনলাইন বেটিং বা বাজিতে বিনিয়োগ করে সবটাই খুইয়ে ফেলেন তিনি। সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পেরুরকাদা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সমগ্র ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে। সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮ ধারায়, অর্থাৎ প্রতারণার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের এফআইআর নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইউনিফর্ম কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সুবাদে তিনি ট্রেনি সহকর্মীদের কাছে ইউনিফর্মের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা এবং তা সঠিকভাবে সেলাই করার জন্য একটি বিশেষ সমিতিকে অর্থ প্রদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই অজুহাত দেখিয়েই তিনি পুলিশের ক্যান্টিনে টাকা জমা দেওয়ার নাম করে বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে সর্বমোট ৭,১৮,৩২০ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, গত ৩ জুলাই থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ নির্ধারিত স্থানে জমা না দিয়ে, অল্প সময়ে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের তীব্র আশায় তা সম্পূর্ণভাবে অনলাইন বাজি খেলায় খরচ করে ফেলেন। কিন্তু তাঁর এই গোপন প্রতারণার জাল খুব বেশি দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের এই বহুমুখী প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি একসময় তাঁরই ঊর্ধ্বতন কমান্ডিং অফিসারের নজরে আসে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তরফেই তাৎক্ষণিকভাবে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্য অন্য কোনো কারণ বা অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।