প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিপর্যস্ত অসম! মৃত বেড়ে শতপার, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে কড়া সতর্কতা জারি

অসমে চলমান ভয়াবহ বন্যায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। রবিবার অসমের ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DRIMS)-এর প্রকাশিত বুলেটিন থেকে জানা গিয়েছে যে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬ জন পুরুষ, ২৩ জন নারী এবং ১৮ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন ছেলে এবং ৬ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কাছাড় এবং শিবসাগর। শুধুমাত্র কাছাড়েই ২২ জনের এবং শিবসাগরে ৪৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া করিমগঞ্জে ৯ জন, গোলাঘাটে ৮ জন ছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, সোনিতপুর এবং কার্বি আংলং জেলায় বহু মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিবসাগরে পূর্বে ভুলবশত একটি মৃত্যুর তথ্য দুবার নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে সেখানকার সংশোধিত মৃতের সংখ্যা ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৯ করা হয়েছে।

অসমের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানী দিল্লিতে যমুনা নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও হাথনিকুণ্ড ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার মাত্রা কিছুটা কমার কারণে যমুনার জলস্তর এখন সামান্য নামতে শুরু করেছে, তবুও প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। বন্যা ও সেচ বিভাগ নদীর পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি বজায় রেখেছে। এর পাশাপাশি, দিল্লিতে ঝোড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, বৃষ্টির সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা নগরবাসীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশেও একটানা বর্ষার কারণে নদনদীর জলস্তর হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। গঙ্গা, যমুনা, শারদা ও সরযূ সহ রাজ্যের ১০টিরও বেশি প্রধান নদী বর্তমানে বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। শাহজাহানপুরের মির্জাপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গার জল প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আবহাওয়া দফতর উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর, শামলি, লখিমপুর খেরি, বাহরাইচ, লখনউ, কানপুর সহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি, বিহারের গয়া, পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, রোহতাস, নওয়াদা, মুজফ্ফরপুর, দারভাঙা, পূর্ণিয়া সহ বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের একাধিক রাজ্যে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া জনজীবনকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।