বড় চমক বাংলায়! ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে বার্নপুরের ইস্কোয় মেগা সম্প্রসারণ, এক ধাক্কায় বিপুল কর্মসংস্থান

আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মুকুটে জুড়তে চলেছে এক বিরাট নতুন পালক। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে রূপ পেতে চলেছে বার্নপুরের ঐতিহাসিক ইস্কো স্টিল প্লান্টের (IISCO Steel Plant) মেগা সম্প্রসারণ প্রকল্প। আধুনিকীকরণের এই কাজ নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সব ঠিক থাকলে, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই এই প্লান্টে বাড়তি উৎপাদন শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের ভারী শিল্পের প্রসারে এই পদক্ষেপ এক বিশাল ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিশাল কর্মযজ্ঞ ও আর্থিক বরাদ্দ

বিপুল এই প্রকল্পটির জন্য খরচ ধরা হয়েছে আনুমানিক ৪৫,৮১০.৯২ কোটি টাকা। সম্প্রসারণের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ইস্কোর উৎপাদন ক্ষমতা এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন পরিকাঠামোর জেরে প্লান্টটির ক্রুড স্টিল বা উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৪.০৮ এমটিপিএ (MTPA)-তে পৌঁছবে।

ইস্কোর এই ঐতিহাসিক রূপান্তরের মূল দায়িত্বে রয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)। ইস্কোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (SAIL)-এর সঙ্গে তাদের طے হওয়া ইপিসিসি (EPCC) চুক্তি অনুযায়ী পুরো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া ও ড্যানিয়েলি কনসোর্টিয়ামের ভূমিকা

শুধু এলঅ্যান্ডটি-ই নয়, এই মেগা প্রজেক্টের অংশ হিসেবে বিশ্বখ্যাত ড্যানিয়েলি কোরাস কনসোর্টিয়াম (Danieli Corus Consortium)-এর তত্ত্বাবধানে একটি অত্যাধুনিক ব্লাস্ট ফার্নেস প্যাকেজের নির্মাণকাজও দ্রুত গতিতে চলছে। ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহ্যবাহী এই কারখানা দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিকীকরণের অপেক্ষায় ছিল। সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ভারতের শিল্প মানচিত্রে এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে।

প্রকল্পের মূল হাইলাইটস:

  • বিনিয়োগের পরিমাণ: প্রায় ৪৫,৮১০ কোটি টাকা।

  • টার্গেট ডেডলাইন: ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

  • উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: সম্প্রসারণের পর ইস্কোর উৎপাদন ক্ষমতা ৪.০৮ এমটিপিএ-তে উন্নীত হবে।

  • কর্মসংস্থান: এই মেগা প্রজেক্টের কল্যাণে বঙ্গে ভারী শিল্পখাতে বিপুল পরিমাণ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ইস্কোর এই মেগা সম্প্রসারণ কেবল বার্নপুর বা আসানসোল নয়, সামগ্রিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক মাইলফলক হতে চলেছে।