যৌন হেনস্থার মামলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ব্রিজভূষণ! আদালতের রায়ে কি ফাঁস হল বিরাট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?

ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (WFI) প্রাক্তন সভাপতি তথা বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং সংস্থার প্রাক্তন সহকারী সচিব বিনোদ তোমরকে ছ’জন মহিলা কুস্তিগীরের দায়ের করা আলোচিত যৌন হেনস্থার মামলায় সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেছে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। অতিরিক্ত মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশ্বিনী পানওয়ার এই রায় ঘোষণা করতে গিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আদালত জানিয়েছে, ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ছিল ‘সাজানো, আগে থেকে মুখস্থ করানো এবং এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ’। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দায়ের হওয়া এই অভিযোগগুলোর ধরন প্রায় হুবহু মিলে যাওয়ায় এবং যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসার আগে পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা না পড়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, মামলার বিচার চলাকালীন পাঁচজন অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগীরের মধ্যে দু’জন নিজেদের আগের বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা আদালতে সগৌরবে জানিয়েছেন যে, এক প্রভাবশালী পুরুষ ও এক মহিলা কুস্তিগীরের চরম চাপের ফলেই তাঁরা ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। বিচারক এই সাক্ষ্যকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য বলে গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি, আদালত জানিয়েছে যে অভিযোগ দায়ের করতে দীর্ঘ সময় গড়ানোর পাশাপাশি যে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলির কার্যকারিতা ও সত্যতা নিয়ে তীব্র সংশয় রয়েছে। কারণ, যে স্থান ও সময়ে ঘটনাগুলি ঘটার কথা বলা হয়েছে, সেগুলি ছিল হাজার হাজার দর্শক, খেলোয়াড় ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত জনাকীর্ণ এলাকা।

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর অভিযোগকারী কুস্তিগীদের প্রবীণ আইনজীবী রেবেকা জন রায়টিকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, স্বস্তি প্রকাশ করে ব্রিজভূষণ শরণ সিং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে, তিনি প্রথম দিন থেকেই নিজের নির্দোষিতার কথা বলে আসছেন এবং অবশেষে সততার জয় হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ২০২৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে বজরং পুনিয়া ও ভিনেশ ফোগাট সহ দেশের শীর্ষ সারির নামী কুস্তিগীররা ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৩৬ দিন ধরে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ভারতীয় রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে গভীর দাগ কেটেছিল।