অবসরের বয়স ৬৫! অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বড় দাবির ঝুলি নিয়ে হাজির শিক্ষক সংগঠন

অষ্টম বেতন কমিশন গঠন এবং এর সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। এরমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের একটি প্রভাবশালী সংগঠন বেতন কমিশন ও সরকারের সামনে একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি পেশ করেছে, যা কার্যকর হলে সরকারি শিক্ষক মহলে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পেনশন থেকে অবসরের বয়স—সবক্ষেত্রেই বড় বদলের ডাক দিয়েছে শিক্ষক সংগঠন।

গত ৭ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ‘অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AINPSEF)-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ওই সংগঠন তাদের দীর্ঘ তালিকা জমা দিয়েছে। এই প্রতিনিধি দলে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় এবং দিল্লির সরকারি স্কুলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবিগুলির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘পুরনো পেনশন ব্যবস্থা’ (OPS) পুনর্বহাল করা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীরা এনপিএস (NPS) বা ইউনিফায়েড পেনশন স্কিমের (UPS) আওতায় থাকলেও, শিক্ষক সংগঠনটি সেই পুরনো কাঠামোতেই ফেরার দাবি তুলেছে।

সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে অবসরের বয়স সংক্রান্ত দাবিতে। সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের (UGC আওতাভুক্ত) মতো কেন্দ্রীয় স্কুলের শিক্ষকদের অবসরের বয়সও ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হোক। সংগঠনের যুক্তি, কেন্দ্রীয় স্কুলের শিক্ষকদের কাজের গুরুত্ব ও অভিজ্ঞতার নিরিখে এই বয়সবৃদ্ধি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এছাড়া বেতন কাঠামো ও ভাতার ক্ষেত্রে সারা দেশের শিক্ষকদের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার দাবিও জোরালো হয়েছে। জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ের নিরিখে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

ছুটির নিয়ম ও চিকিৎসাগত সুবিধার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি আধুনিকীকরণের প্রস্তাব রেখেছে। বছরে ১৪ দিন ক্যাজুয়াল লিভ, ৩০ দিন আর্নড লিভ এবং ২০ দিন মেডিকেল লিভ—এই ছুটির কাঠামো চেয়ে তারা জানিয়েছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পুরুষ শিক্ষকদের জন্যও ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’ বা শিশু যত্ন ছুটির সুবিধা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন সম্পূর্ণ ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসার নিশ্চয়তা এবং অবসরের পর দিল্লি সরকারি কর্মচারী স্বাস্থ্য প্রকল্প অথবা সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিম (CGHS)-এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

পদোন্নতির নিয়মেও বড় বদলের প্রস্তাব রয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রিন্সিপাল পদের সিংহভাগ শূন্যপদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমেই পূরণ করা হোক। এছাড়া ‘হেড অফ সাবজেক্ট’ নামে একটি নতুন পদ তৈরির দাবি জানিয়ে সেটির গ্রেড পে ৫,৪০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভাইস-প্রিন্সিপালদের গ্রেড পে ৬,৬০০ টাকা করার এবং ওই পদে ১০০ শতাংশ বিভাগীয় কোটা রাখার আবেদনও জানানো হয়েছে।

তবে এটা মনে রাখা জরুরি যে, ৬৫ বছর অবসরের বয়স বা ওপিএস (OPS) পুনর্বহাল—কোনটিই এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়। শিক্ষক সংগঠনের পেশ করা এই সমস্ত প্রস্তাব আপাতত অষ্টম বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন সমস্ত কর্মচারী সংগঠনের মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই কেবল এই বদলগুলি কার্যকর হতে পারে। এখন বেতন কমিশনের সুপারিশের দিকেই তাকিয়ে আছেন দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক।