রণক্ষেত্র রাঁচি! ১৭ দিনের আন্দোলনের পর আজ বিধানসভা অভিযান, ঝাড়খণ্ডে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলা ছাত্র আন্দোলন আজ এক চূড়ান্ত ও বিস্ফোরণমুখী পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭ দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর, পরীক্ষার্থীরা আজ সোমবার রাঁচিতে ‘বিধানসভা অভিযান’-এর ডাক দিয়েছেন। সিবিআই (CBI) তদন্ত এবং বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা কোনোভাবেই পিছু হটতে রাজি নয়। যদিও রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে তারা পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছে, তবুও এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আজ বড় ধরনের গণ-আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছেন ছাত্ররা।
সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (জেপিএসসি) রবিবার এক বড়সড় রদবদল ঘটেছে। দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করতে ঝাড়খণ্ড সিআইডি (CID) জেপিএসসির তিন সদস্য—অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল। সিআইডির মুখোমুখি হওয়ার আগেই রবিবার তাঁরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ১০, ১২ এবং ১৪ আগস্ট তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের দিন ধার্য করা হয়েছিল। এর আগে ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারপার্সন জে খিয়াংতে পদত্যাগ করেছিলেন। পরপর এই পদত্যাগের ঘটনা জেপিএসসির স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের এই বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার রাঁচির বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন বিধানসভা চত্বরের ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ১২ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকাটি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ১,৫০০ পুলিশকর্মী ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে।
রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্য সরকার ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে ছয় দফায় আলোচনা হলেও কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি। সরকারের দাবি, তারা ঝাড়খণ্ডের ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছে। বিশেষ করে তিনটি বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের এই ‘৯৮ শতাংশ দাবি মানার’ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁদের মতে, মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিলের আশ্বাসে আন্দোলন শেষ হবে না। তাঁদের মূল দাবি হলো, জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) সহ নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিটি পরীক্ষায় দুর্নীতির স্বচ্ছ তদন্তের জন্য সিবিআইকে দায়িত্ব দিতে হবে।
এই আন্দোলনকে ঘিরে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত। রাজ্যের সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের আজকের বিধানসভা অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রবীন্দ্র পাসওয়ান। একপাক্ষিক আপস না করার অবস্থানে অনড় থাকায় এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরজাও প্রায় বন্ধ হয়ে আসায় ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি এখন যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের দাবিই বর্তমানে রাজ্যের যুব সমাজের প্রধান এজেন্ডা।