‘আগে কিচ্ছু হয়নি, কারণ নীতি ও জমিও ছিল না!’ শিল্পায়ন নিয়ে বিরোধীদের মুখে ঝামা ঘষে বিস্ফোরক তাপস রায়

রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। অতীতে বাংলার শিল্পায়ন থমকে যাওয়ার নেপথ্যে সঠিক নীতি এবং উপযুক্ত জমির অভাবকেই মূলত দায়ী করেছেন তিনি। মন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, বাম জমানায় বা তার পরবর্তী সময়ে বাংলায় সুনির্দিষ্ট কোনো ল্যান্ড ব্যাঙ্ক বা শিল্পবান্ধব নীতি ছিল না, যার ফলে অতীতে বড় ধরনের শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থান সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান সরকারের রূপরেখা এবং নতুন নীতির হাত ধরে এবার রাজ্যে সার্বিক শিল্পায়ন ও ব্যাপক বিনিয়োগের জোয়ার আসতে চলেছে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলগুলিতে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকাঠামো বা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়নি। শিল্প স্থাপনের জন্য সবচেয়ে প্রাথমিক শর্ত হলো পর্যাপ্ত জমির ল্যান্ড ব্যাঙ্ক এবং একটি সুসংহত শিল্প নীতি, যা বিগত দিনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। এই প্রশাসনিক ও নীতিগত ঘাটতির কারণেই বহু ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে বর্তমান প্রশাসনের সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফলে সেই অন্ধকার দিন কেটে গেছে এবং রাজ্য এখন বিনিয়োগের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের আমলে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী জানান যে, রাজ্যজুড়ে নতুন নতুন শিল্পতালুক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক ছাড় ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই দেশের ও বিদেশের বহু শিল্পপতি ও কর্পোরেট সংস্থা বাংলায় লগ্নি করার জন্য আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ—তিনটি ক্ষেত্রেই শিল্পের প্রসারে রাজ্য সরকার সমানভাবে জোর দিচ্ছে, যাতে পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীরা যখন প্রায়শই রাজ্যে শিল্পায়ন না হওয়া নিয়ে সরকারকে আক্রমণ শাণায়, ঠিক সেই সময় দাঁড়িয়ে তাপস রায়ের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি এবং আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিল। বিগত দিনের সমস্যাগুলিকে স্বীকার করে নিয়েও বর্তমান সরকারের নীতিগত সাফল্যের কথা যেভাবে তিনি তুলে ধরেছেন, তা আগামী দিনে বাংলার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলাতে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার। রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বেকার যুবক-যুবতীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই নতুন শিল্প উদ্যোগগুলির বাস্তবায়নের জন্য।