আবাসনের ছাদে মর্মান্তিক কাণ্ড! কাজে যোগ দেওয়ার চার দিনের মাথায় মহিলা ভাড়াটিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার নিরাপত্তারক্ষী

গুজরাতের একটি অভিজাত আবাসন সোসাইটিতে এক মহিলা ভাড়াটিয়াকে শ্বাসরোধ করে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক নিরাপত্তারক্ষীকে রবিবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঘটনার মাত্র চার দিন আগেই ওই আবাসনে কাজে যোগ দিয়েছিল অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী। নিয়োগকারী নিরাপত্তা সংস্থার চরম গাফিলতি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা অতীত যাচাই না করেই কর্মী নিয়োগের বিষয়টি এই ঘটনায় নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার (সেক্টর-১) নীরজ বদগুজার এক প্রেস বিবৃতিতে জানান যে, উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার বাসিন্দা অভিযুক্ত ধরম সিং শনিবার গভীর রাতে সোসাইটির ছাদে হাঁটতে যাওয়া ওই মহিলার উপর চড়াও হয়। মহিলাকে শ্বাসরোধ করে যৌন নির্যাতন চালানোর পর তাকে ছাদে আটকে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রহরী লিফট এবং সিঁড়ি ব্যবহার করে ছাদের ওই নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করেছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গ্রেপ্তারি এড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
পুলিশ আধিকারিক আরও জানান যে, আসামের সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গুজরাতের এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমদাবাদের বিভিন্ন কোম্পানিতে এর আগেও নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করেছে সিং। তবে যে সিকিউরিটি এজেন্সি তাকে নিয়োগ করেছিল, তারা প্রাথমিক দৃষ্টিতে তার অপরাধমূলক পটভূমি যাচাই করতে, প্রয়োজনীয় পেশাদার প্রশিক্ষণ দিতে কিংবা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই মারাত্মক গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা এজেন্সির বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র কঠোর ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-এর একটি বিশেষ দল অপরাধস্থল পরিদর্শন করেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী মহিলা এবং অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী—উভয়েরই পুঙ্খানুপুঙ্খ ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করতে এবং অপরাধের নিখুঁত প্রমাণ সংগ্রহ করতে ডিএনএ-ভিত্তিক ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।