রণক্ষেত্র রাঁচি! CGL বাতিলের দাবিতে বিধানসভা ঘেরাওয়ে নামছে হাজার হাজার ছাত্র, তুলকালাম কাণ্ড রাজ্যে

ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন এবার এক চূড়ান্ত ও তীব্র পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। CGL পরীক্ষা বাতিল এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিতে আজ সোমবার সকাল ১০টায় রাঁচিতে বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা ও ছাত্রসংগঠনগুলি। এই বিশাল আন্দোলন মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিউ অ্যাসেম্বলি চত্বরের ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১,৫০০ নিরাপত্তাকর্মী। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকার ও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মধ্যে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েন আজ চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হ’ল অবিলম্বে বিতর্কিত CGL পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। ছাত্রনেতা রবীন্দর পাসওয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরীক্ষা বাতিলের দাবি থেকে তাঁরা একচুলও সরবেন না এবং এই বিষয়ে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। এর আগে CGL বিতর্কের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঝাড়খণ্ড সরকারের পক্ষ থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের একবাক্যে দাবি, এই দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বচ্ছ তদন্ত একমাত্র কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-ই করতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে এই বিচারবিভাগীয় তদন্ত বনাম সিবিআই তদন্তের দাবিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাঁচি জুড়ে কার্যত দুর্গের রূপ নিয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন পুলিশ (RAP), ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (IRB), জেলা পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT)-এর সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ১,৫০০ সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথেও কড়া নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ কন্ট্রোল রুমে একটি বিশেষ দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের যেকোনো ধরনের হিংসা থেকে দূরে থাকার এবং বেআইনি জমায়েত এড়ানোর কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পুরনো বিধানসভা থেকে নতুন বিধানসভায় যাওয়ার সমস্ত সংযোগকারী রাস্তায় একাধিক ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
ছাত্রদের প্রস্তাবিত এই বৃহত্তর আন্দোলন এবং বিধানসভা চত্বর জুড়ে চরম নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে রাঁচির একাধিক স্বনামধন্য স্কুল আজ পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের জমায়েত ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার জেরে স্বাভাবিক জনজীবন বিঘ্নিত হতে পারে এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা বিপদে পড়তে পারে—এই আশঙ্কাই স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। যদিও সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে পড়ুয়াদের অধিকাংশ দাবিই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। হেমন্ত সোরেন সরকার ইতিমধ্যেই ১৪তম JPSC পরীক্ষা, JPSC ব্যাকলগ ২০২৩ এবং JPSC ব্যাকলগ ২০২৫ পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টিতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া টিডিপিএল (TDPL) সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষাগুলিতে সিবিআই নয়ত সিআইডি (CID) তদন্তে সম্মতি জানানো হয়েছে এবং আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিললে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তদন্তের সুপারিশও করা হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া এগোতে থাকায় এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সিআইডি টিম প্রাক্তন জেপিএসসি সদস্য অজিতা ভট্টাচার্যকে জেরা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে চাপের মুখে পড়ে জেপিএসসি-র চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজেদের পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সমস্ত আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন যে, গায়ের জোর বা সংঘাত নয়, বরং আলোচনার টেবিল থেকেই যেন এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান বের করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিয়োগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থা আমূল সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকার ‘Students’ Voice, With Students’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে। তবে হেমন্ত সরকারের এই নরম-গরম নীতির পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠি ও ব্যারিকেড ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।