বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা তরুণী! পারিবারিক ‘সম্মান’ বাঁচাতে নিজের মেয়েকে চম্বল নদীতে ডুবিয়ে মারল নৃশংস বাবা

সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর সূত্রে প্রাপ্ত এক চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা খবরে জানা গিয়েছে, সামাজিক লজ্জা এবং তথাকথিত পারিবারিক সম্মান রক্ষার এক অদ্ভুত জেদে নিজের ১৮ বছর বয়সি গর্ভবতী মেয়েকে চম্বল নদীতে ডুবিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করেছে এক বাবা। দক্ষিণ দিল্লির এই রোমহর্ষক ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পিতা এবং তার এক অপরাধী আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ জুলাই দক্ষিণ দিল্লির তিগরি থানায় পুলিশের একটি টহলদারি ভ্যানের মাধ্যমে প্রথম এই ভয়াবহ অপরাধের খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। নিখোঁজ ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের করার পর শুরু হয় নিখুঁত ও ত্বরিত তদন্ত। জিজ্ঞাসাবাদ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পুলিশের হাতে আসে এক ভয়ংকর সত্য। তদন্তে উঠে আসে যে, ওই ১৮ বছর বয়সি কিশোরী বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে এই ঘটনা ঘটায় সমাজে মুখ পুড়বে—এমন অন্ধ ও সংকীর্ণ আশঙ্কায় বেকে বসে তার পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গর্ভসঞ্চারের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ওই কিশোরীর বাবা সামাজিক ও পারিবারিক মানসম্মান হারানোর তীব্র ভয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এর পরেই সে নিজের এক আত্মীয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মেয়েকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার এক ঠান্ডা মাথায় ছক কষে। পরিকল্পনা মতো, উত্তরপ্রদেশের আগ্রার বাসোনি এলাকার চম্বল নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয় ওই তরুণীকে। সেখানে অত্যন্ত সুচারুভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে জলের মধ্যে ডুবিয়ে তাকে খুন করে অভিযুক্ত বাবা ও তার সেই সহযোগী আত্মীয়। প্রাথমিক জেরা শেষে পুলিশ ধৃত দু’জনকেই হেফাজতে নিয়ে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অপরাধের সমস্ত দিক পরিষ্কার হয়।

তবে এই নৃশংস ঘটনার পর সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, ঘটনার এতদিন পরেও নদীগর্ভে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও ওই হতভাগা কিশোরীর মৃতদেহটি এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ডুবুরি দল নদীর স্রোত ও দু’পারের বিস্তীর্ণ এলাকায় লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই ধরনের জঘন্য অনার কিলিং বা সম্মানরক্ষার নামে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।