‘মোদি-বিরোধী আন্দোলনের ছবি ও ফেলানির ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে!’ জুলাই জাদুঘর নিয়ে বিএনপিকে কড়া আক্রমণ নাহিদের

২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের নেপথ্যের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতা তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলামের বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওপার বাংলার রাজনীতি। শনিবার সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে বর্তমান শাসক দল বিএনপিকে সরাসরি আক্রমণ করেন তিনি। নাহিদের অভিযোগ, জাদুঘর থেকে ভারত-বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি এবং বিএসএফের হাতে নিহত ফেলানির ভাস্কর্য বা ভারতীয় আগ্রাসনের বিভিন্ন তথ্য পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এর পেছনে বিএনপির ভারতভীতি কাজ করছে বলেই তাঁর দাবি।

এদিন এক প্রতিনিধি দল নিয়ে গণভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে যান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ তথা ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বিশেষত, এখানে সীমান্ত হত্যার একটা সেগমেন্ট ছিল। সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভাইবোনদের একটা তালিকা ছিল, ফেলানির একটা ভাস্কর্য ছিল। সেই জিনিসগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মোদি-বিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতি ও ছবি ছিল, সেটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

এর পরেই বর্তমান শাসক দল বিএনপিকে নিশানা করে নাহিদ কটাক্ষের সুরে বলেন, “বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে। যদি ভয় না পেত, তাহলে যেটা ইতিহাসের অংশ, সেটা কেন থাকবে না? জাদুঘরের বর্তমান চিত্রে দল হিসেবে বিএনপির নির্যাতনের কন্টেন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। দলীয় বক্তব্য ও বয়ান বেড়েছে। এই জাদুঘর সব সময় একটা আপডেটের মধ্যে থাকবে।”

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এরই মাঝে দেশের অন্দরে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাতে ভারত-বিরোধী উপাদান বা আগ্রাসনের চিত্র রাখা না রাখা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও তরজা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে বর্তমান সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।