টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা! জামিনের আবেদন খারিজ হতেই সিআইডির মুখোমুখি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক!

শালবনির জমি সংক্রান্ত প্রতারণা এবং টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার গুরুতর অভিযোগে অবশেষে সিআইডির (CID) মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শনিবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই, সকাল ১০টা নাগাদ কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডির সদর দফতরে হাজিরা দেন তিনি। তদন্তকারী সূত্রে খবর, এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সুমিতকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বয়ান রেকর্ড করবেন গোয়েন্দারা।
এর আগে শুক্রবার রাতেই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে তলবের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করে সিআইডি। তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকে টালিগঞ্জের মহাবীরতলায় অবস্থিত তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়। মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার গ্রেফতারির পরই মূলত এই তদন্তের মোড় ঘোরে। জেলবন্দি সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই সুমিত রায়ের নাম এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ ওঠে, বিগত বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিভিন্ন স্তরের প্রার্থীপদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি সংক্রান্ত আরেকটি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে সহযোগিতার অভাব এবং সমন এড়িয়ে চলার অভিযোগে এর আগে মেদিনীপুর আদালতের পক্ষ থেকে সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল। শালবনি থানার পুলিশ কলকাতার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় তল্লাশি চালালেও দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ মেলেনি। এরপর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। আইনি রক্ষাকবচ ও আগাম জামিনের আশায় সুমিতের আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানালেও আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, নিয়মমাফিকই মামলার শুনানি হবে। এর মধ্যেই সুমিতের বিরুদ্ধে আরও নতুন দুটি মামলা রুজু হওয়ায় তাঁর আইনি জটিলতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
দীর্ঘ নাটকীয়তার পর শনিবার সকালে সিআইডির দফতরে সুমিত রায়ের এই হাজিরা রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, আর্থিক লেনদেন এবং জমির দুর্নীতির সমস্ত নথি সামনে রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই জেরার মুখে দাঁড়িয়ে সুমিত রায় তদন্তকারীদের কী তথ্য দেন এবং এই পুরো কেলেঙ্কারির নেপথ্যে আর কাদের নাম উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।