“১০ হাজারের SIP নাকি এককালীন ২ লাখ?”-কোন উপায়ে দ্রুত ১ কোটি টাকার ফান্ড গড়বেন?

আপনিও কি ভবিষ্যতে ১ কোটি টাকার একটি বড় ফান্ড গড়তে চান? দীর্ঘমেয়াদে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে এই বিরাট লক্ষ্য অর্জন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। আপনি চাইলে এককালীন (Lumpsum) বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন, কিংবা এসআইপি (SIP)-র মাধ্যমে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েও এই মাইলফলক ছুঁতে পারেন।
ধরে নেওয়া যাক, উভয় ক্ষেত্রেই আনুমানিক ১২ শতাংশ সাধারণ বার্ষিক রিটার্ন (Annual Return) পাওয়া যাবে। তাহলে কোন পদ্ধতিতে কত দিনে আপনার ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি হতে পারে, তার একটি তুলনামূলক হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
১. এককালীন বিনিয়োগ ক্যালকুলেটর (Lumpsum Calculator)
যদি আপনি কোনো ফান্ডে একেবারে ২ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করেন, তবে ১২% রিটার্ন ধরে নিলে সেই টাকা থেকে ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি হতে মোট ৩৫ বছর সময় লাগবে। এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে আপনার প্রাথমিক ২ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ থেকে প্রায় ১.৩ কোটি টাকা রিটার্ন বা রিটার্ন অ্যামাউন্ট জেনারেট হবে।
২. এসআইপি ক্যালকুলেটর (SIP Calculator)
পক্ষান্তরে, আপনি যদি এককালীন না করে এসআইপি-র মাধ্যমে প্রতি মাসে মাত্র ১০,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেন, তবে ১২% রিটার্নে মাত্র ২১ বছরেই ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করতে পারবেন। এই ২১ বছরের মেয়াদে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ২৫.২০ লক্ষ টাকা এবং আপনার জমানো টাকার ওপর রিটার্ন আসবে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।
এসআইপি-র মাধ্যমে কেন দ্রুত ১ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা সম্ভব?
ওপরের হিসাবটি খেয়াল করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকার এসআইপি-র মাধ্যমে মাত্র ২১ বছরেই ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করা সম্ভব, যেখানে মাত্র ২ লক্ষ টাকার এককালীন বিনিয়োগকে ১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে ৩৫ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ, এসআইপি পদ্ধতি বেছে নিলে একজন বিনিয়োগকারী ১৪ বছর আগেই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।
এর মূল কারণ হলো নিয়মানুবর্তিতা ও চক্রবৃদ্ধি হার (Compounding)। এসআইপি-র ক্ষেত্রে প্রতি মাসেই নতুন করে ১০,০০০ টাকা করে ফান্ডে যোগ হতে থাকে, যার ফলে ২১ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ২৫,২০,০০০ টাকায়। অন্যদিকে এককালীন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুরুতে একবারই মাত্র ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে কোনো অতিরিক্ত অর্থ তাতে যোগ হয় না। যদিও উভয় পদ্ধতির মোট বিনিয়োগের অঙ্ক সম্পূর্ণ আলাদা, তবুও নিয়মিত বিনিয়োগের কারণে এসআইপি পদ্ধতিটি অনেক কম সময়ে বড় তহবিল গড়তে সাহায্য করে।
ডিসক্লেমার: মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজার ঝুঁকির অধীন। এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে পরিবেশিত হয়েছে এবং এটিকে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার সার্টিফাইড আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।