বড় স্বস্তি করদাতাদের জন্য! ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমা পেরোলেও এবার এই বিশেষ নিয়মে জমা দিন আয়কর রিটার্ন

আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) বা আইটিআর ফাইল করার ক্ষেত্রে গত ৩১ জুলাই ছিল মূল ডেডলাইন। নির্ধারিত সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গিয়েছে। তবে যাদের ওই নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের জন্য রয়েছে একটি বড় স্বস্তির খবর। এখনও নির্দিষ্ট কিছু করদাতা চাইলে আইটিআর জমা করতে পারছেন। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যাদের আয় হয়েছে এবং অ্যাকাউন্ট অডিটের প্রয়োজন হয় না, তারা আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া যে সমস্ত ছোট ব্যবসায়ী প্রিসামটিভ ট্যাক্সেশন স্কিম বা অনুমিত কর ব্যবস্থা (Presumptive Taxation Scheme) বেছে নেন, তারাও এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে আইটিআর ফাইল করতে পারেন। সাধারণত এই ক্যাটেগরির করদাতাদের আইটিআর-৩ এবং আইটিআর-৪ ফর্ম দাখিল করতে হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইটিআর ফাইল করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ই-ফাইলিং করার পূর্বে প্রতিটি করদাতাকে অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে যে তাদের আয়ের উৎস অনুযায়ী কোন আইটিআর ফর্মটি প্রযোজ্য এবং তাতে ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজন রয়েছে কি না। সাধারণত যে সমস্ত সংস্থা বা ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার ১০ কোটি টাকার বেশি হয়—যেখানে নগদ লেনদেন মোট লেনদেনের ৫ শতাংশের বেশি নয়—অথবা পেশাদার বা চাকরিজীবীদের মোট প্রাপ্তি ৭৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজন পড়ে। এই ধরনের অডিটযুক্ত অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য আইটিআর দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ধার্য করা হয়ে থাকে।

যদি কেউ এই বর্ধিত ডেডলাইনও মিস করে ফেলেন, তবে কি আর আইটিআর জমা দেওয়া যাবে না? বিষয়টি এমন নয়। ডেডলাইনের পর আইটিআর জমা দেওয়া সম্ভব হলেও, সেক্ষেত্রে করদাতাকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত লেট ফি বা দেরির মাসুল গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি, নিয়মানুযায়ী আইটিআর লেট করলে কর ছাড় এবং অন্যান্য একাধিক আকর্ষণীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধাও হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই সমস্ত রকম আর্থিক ঝুটঝামেলা ও জরিমানা এড়াতে করদাতাদের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তাদের সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত ই-ফাইলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।