অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে বড় জট! ১৫ অগস্টের পর মিলবে কিস্তি? নবান্নের ঘোষণায় মিলল স্বস্তি!

যত দিন গড়াচ্ছে, ততই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও জল্পনা চরমে পৌঁছাচ্ছে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে অগস্ট মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত অনেক উপভোক্তা এই প্রকল্পের ভাতা হাতে পাননি। এই বিলম্বের কারণে সাধারণ মানুষের মনে নানাবিধ প্রশ্ন দানা বাঁধছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে বুঝি তাঁদের নাম সরকারি তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ পড়ে গেছে। ঠিক এমন একটি ধোঁয়াশাপূর্ণ ও উৎকণ্ঠার মুহূর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং নতুন কিস্তি নিয়ে সামনে এল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সবচেয়ে বেশি চর্চিত ও আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এই অন্নপূর্ণা যোজনা। পূর্বে প্রচলিত জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আদলেই বা তার বিকল্প হিসেবে এই নতুন যোজনা চালু করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নাগরিকদের নতুন করে আবেদন করতে হয়েছে এবং তারপর ধাপে ধাপে ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের স্পষ্ট নীতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র যাচাইয়ে উত্তীর্ণ এবং প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই এই ভাতার সুবিধা পাবেন।
এবার এই বহুচর্চিত অন্নপূর্ণা যোজনার তৃতীয় কিস্তির টাকা বিতরণ নিয়ে নয়া তথ্য প্রকাশ্যে এল। অগস্ট মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বহু উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তবে কি চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে গেল এই ভাতা? সাধারণ মানুষের মনে যখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মালতী রাভা রায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, চলতি মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ১৫ অগস্টের পর বিতরণ করা হবে। মন্ত্রী জানান, অতীতে বহু অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন এবং অবৈধভাবে টাকা তুলছিলেন। সেই অনিয়ম রুখতেই বর্তমান সরকার অত্যন্ত কড়া হাতে ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ব্লক ভিত্তিক ভেরিফিকেশন চলছে। আর এই ব্যাপক যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণেই চলতি মাসে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
এদিকে, এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আগেই পরিষ্কার করে জানিয়েছিলেন যে আগামী ৩০ অগস্ট পর্যন্ত এই ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে। এরপর সমস্ত দিক খুঁটিয়ে বিচার করে প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের সঠিক তালিকা নির্বাচন করা হবে এবং তারপরই ধাপে ধাপে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অর্থাৎ, সহজ কথায় বলতে গেলে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তৃতীয় কিস্তির টাকা পেতে হলে সাধারণ উপভোক্তাদের আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।