শুধু ঠান্ডা নয়, গরম খাবার খেলেও কি দাঁতে তীব্র ব্যথা ও শিরশির অনুভব হয়? জেনে নিন

দাঁতের যত্ন না নিলে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়, যার মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ অথচ কষ্টদায়ক একটি সমস্যা হলো দাঁতের শিরশিরানি বা সেনসিটিভিটি। মূলত দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর বা এনামেল ক্ষয়ে গেলে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ঠান্ডা খাবার বা পানীয় খেলেই যে দাঁত শিরশির করবে এমন নয়, অনেক সময় গরম খাবার, মিষ্টি কিংবা অতিরিক্ত অ্যাসিডযুক্ত খাবার থেকেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এনামেল বেশি ক্ষয়ে গেলে ডেন্টিন উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং দাঁতের ভেতরের স্নায়ুকেন্দ্র সরাসরি প্রভাবিত হয়, যার ফলে সামান্য ছোঁয়া বা তাপমাত্রার পরিবর্তনেও তীব্র অস্বস্তি অনুভূত হয়। তবে সঠিক নিয়ম মেনে কিছু ঘরোয়া টোটকা এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে দাঁতের এই শিরশিরানি ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য সবচেয়ে কার্যকরী প্রাথমিক উপায় হলো ঈষদুষ্ণ গরম জলে সামান্য নুন মিশিয়ে দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার মুখ কুলকুচি বা গার্গল করা। নুন জল মুখের ভেতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব কমাতে এবং পিএইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ কাজ করে। পাশাপাশি, বাজারে প্রচলিত ডিসেনসিটাইজিং টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন, যা দাঁতের ভেতরের স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমিয়ে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। দাঁত ব্রাশ করার সময় অতিরিক্ত জোরে ঘষাঘষি করা থেকে বিরত থাকুন এবং সবসময় নরম ব্রিসলযুক্ত বা সফট টুথব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। শক্ত ব্রাশ ব্যবহারের ফলে দাঁতের এনামেল আরও দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। অত্যন্ত বেশি অ্যাসিডযুক্ত খাবার, সোডা কিংবা টক জাতীয় ফল অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে ফেলা উচিত, কারণ এগুলি এনামেলকে দুর্বল করে দেয়। প্রতিদিন নিয়ম মেনে সঠিক oral hygiene বা মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে বড় ধরনের ডেন্টাল জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তবে যদি ঘরোয়া উপায়ে দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত পেশাদার ডেন্টিদের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।