বাজারে নকল খেজুরে ভরা! আসল আর ভেজাল খেজুর চেনার এই ৫টি জাদুকরী কৌশল জানেন কি?

প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর এবং পুষ্টির এক অনন্য উৎস হিসেবে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। রমজান মাস হোক কিংবা দৈনন্দিন ডায়েট চার্ট—শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বর্তমান বাজারে ভেজাল ও কেমিক্যালের প্রভাবে আসল এবং ভালো মানের খেজুর চিনে নেওয়া সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা বা পুরনো পচে যাওয়া খেজুর চকচকে পলিশ করে বাজারে বিক্রি করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং সঠিক মানের পুষ্টি পেতে ভালো খেজুর চেনার কিছু সহজ ও পরীক্ষিত কৌশল জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম এবং প্রধান কৌশল হলো খেজুরের বাহ্যিক চকচকে ভাব ও স্পর্শ পরীক্ষা করা। খাঁটি ও ভালো মানের খেজুরে প্রাকৃতিক তেল বা আর্দ্রতার কারণে একটি হালকা ম্যাট ফিনিশ থাকে। কিন্তু যে সমস্ত খেজুরে অতিরিক্ত চকচকে ভাব দেখা যায়, বুঝতে হবে তাতে গ্লুকোজ সিরাপ বা কৃত্রিম মোম বা ওয়াক্স ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, খেজুর কেনার সময় তার গন্ধের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আসল খেজুরের গায়ে একটি মিষ্টি ও প্রাকৃতিক সুবাস থাকে, পক্ষান্তরে ভেজাল বা কেমিক্যালযুক্ত খেজুরে হালকা অ্যাসিডের মতো বা ভিনাগারের গন্ধ পাওয়া যায়।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেজুরের ত্বকের গঠন ও শক্তিমত্তা। ভালো মানের খেজুর খুব বেশি শক্ত বা একদম পাথরের মতো হয় না, আবার অতিরিক্ত নরম বা আঠালো হয়ে গলে যায় না। আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে যদি সেটি নরম ও রসালো মনে হয়, তবে তা কেনার উপযোগী। চতুর্থত, খেজুরের খোসা ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। খাঁটি খেজুরের খোসা কিছুটা কুঁচকানো থাকে এবং তা শাঁসের সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে। অতিরিক্ত মসৃণ বা চকচকে খোসাওয়ালা খেজুর সাধারণত নিম্নমানের হয়। পঞ্চম ও শেষ কৌশল হলো খেজুর ধুয়ে পরীক্ষা করা। আসল খেজুর জলে ধুলে তার প্রাকৃতিক গুণাগুণ বজায় থাকে, কিন্তু ভেজাল খেজুরে কৃত্রিম রং মিশিয়ে থাকলে তা জলে দিলেই জল রঙিন হয়ে যায়। এই সহজ ৫টি নিয়ম মেনে আজই আপনার পরিবারের জন্য কিনুন নিরাপদ ও সেরা খেজুর।