‘এমন কুরুচিকর কন্টেন্টের কোনো জায়গা নেই!’ ফেক ভিডিও মামলায় মেটা ও গুগলকে চরম সতর্কবার্তা আদালতের!

বোম্বে হাইকোর্ট বুধবার দেশের বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কীকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি প্রদান করেছে। সরকারের সুপরিচিত ‘ইথানল-ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম’ বা ই২০ জ্বালানি নীতি নিয়ে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সম্মানহানি করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সমস্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা ডিপফেক (Deepfake) কন্টেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি আরিফ ডাক্তারের একক বেঞ্চ মেটা, এক্স (X), গুগল ও ইউটিউবের মতো প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর নির্দেশ জারি করেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়া এই সমস্ত ভুয়া ভিডিও এবং কন্টেন্ট অত্যন্ত অবমাননাকর, যা সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কী তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে মেটা, গুগল, এক্স, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং টেলিকম দপ্তরের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। শুনানির সময় আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ইনস্টাগ্রাম রিল এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে যে সমস্ত ট্রান্সক্রিপ্ট ও ভিডিও সামনে এসেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। এই ধরনের কন্টেন্ট ইন্টারনেটের অবাধ দুনিয়ায় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আদালতের শুনানিতে মেটা এবং গুগলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে মামলাকারীর চিহ্নিত করা সমস্ত आपत्तिজনক কন্টেন্ট স্বেচ্ছায় এবং দ্রুত মুছে ফেলার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। আদালত তাদের এই বিবৃতিকে রেকর্ড করে অবিলম্বে ওই আপত্তিকর লিংক ও ভিডিওগুলি ডিলিট করার নির্দেশ দিয়েছে।
শুধু বর্তমান কন্টেন্ট অপসারণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আদালত, বরং ভবিষ্যতের সুরক্ষার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি মন্ত্রী নীতিন গড়কী বা তাঁর আইনি দল এ ধরনের অন্য কোনো মানহানিকর বা জালিয়াতি করা কন্টেন্টের সন্ধান পান, তবে তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ইন্টারমিডিয়ারি বা সংস্থাকে তা অবহিত করতে পারবেন এবং সংস্থাকে অবিলম্বে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। আদালত গুগল ও মেটার শীর্ষ কর্তাদের এও পরামর্শ দিয়েছে যে, প্রতিটি ভুয়া কন্টেন্টের জন্য বারবার আদালতে চক্কর কাটার ঝুট ঝামেলা এড়াতে একটি স্থায়ী ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বা মেকানিজম তৈরি করা হোক, যাতে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করা যায়। আগামী চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।