‘নিজের জীবন বাজি রাখবেন না!’ আমরণ অনশনরত ছাত্রনেতাকে বাঁচানোর আকুল আর্জি প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের!

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজধানী রাঁচিতে ছাত্র বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো গত চার দিন ধরে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে কঠোর অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। টানা চার দিন ধরে খাদ্য ও জল সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার ফলে গতকাল থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। এই দীর্ঘ কথোপকথনে তাঁরা ছাত্র সমাজের যৌক্তিক দাবি এবং দেবেন্দ্রের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সোনম ওয়াংচুক অনশনরত ছাত্রনেতার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে অবিলম্বে অনশন প্রত্যাহার করার বিনীত অনুরোধ জানান। ওয়াংচুক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, সত্যাগ্রহ বা উপবাসের মূল উদ্দেশ্য কখনোই নিজের শরীরের ক্ষতি করা বা আত্মঘাতী হওয়া হতে পারে না, বরং এর লক্ষ্য হলো ঘুমিয়ে থাকা প্রশাসন ও সরকারকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। তিনি মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ টেনে বলেন যে, গান্ধীজি তাঁর দীর্ঘ অনশনের সময় নিয়মিত লেবু জল বা জল গ্রহণ করতেন, যা শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। ওয়াংচুকের এই মানবিক ও যুক্তিযুক্ত অনুরোধের পরেই দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো তাঁর চার দিনের টানা জল-অনশন ভঙ্গ করতে রাজি হন। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আন্দোলন চলবে।

ফোন আলাপের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, “সোনমজি যখন জানতে পারলেন যে আমি গত চার দিন ধরে এক ফোঁটা জলও মুখে তুলিনি, তখন তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে জোরালো সমর্থন জানান।” দেবেন্দ্র আরও জানান যে, ওয়াংচুকের অনুরোধ এবং শর্ত সাপেক্ষেই তিনি জল পান করেছেন। তিনি ওয়াংচুকের কাছে দাবি রেখেছিলেন যে, যতদিন না ঝাড়খণ্ডের বেকার যুবকরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও ন্যায়বিচার পাচ্ছে, ততদিন তাঁকে এই আন্দোলনে পাশে থাকতে হবে। জবাবে সোনম ওয়াংচুক তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং শীঘ্রই সশরীরে রাঁচিতে এসে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে এই হাই-প্রোফাইল ফোনালাপ ও জল গ্রহণের ঘটনা আন্দোলনকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।