তাজমহলের অন্দরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! পশ্চিম গেটে প্রবেশ করতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ASI কর্মীর প্রাণহানির ঘটনায় থমথমে চত্বর

বিশ্বের অন্যতম সপ্তম আশ্চর্য ও ঐতিহাসিক প্রেমের সৌধ তাজমহলে ঘটা এক মর্মান্তিক আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা আগ্রা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাজমহলে নিজের নির্ধারিত ডিউটিতে যোগ দিতে এসে হঠাৎই মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) এক প্রবীণ কর্মী। এই আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে সৌধ চত্বরের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে পড়ে এবং ডিউটিরত অন্যান্য কর্মী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মৃত কর্মীর নাম কৈলাশি, বয়স ৫৬ বছর। তিনি উত্তরপ্রদেশের আগ্রার সিকন্দরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাজমহলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণ আধিকারিক কালান্দার বিন্দ গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, মঙ্গলবার দুপুরের শিফটে নিজের ডিউটি করার জন্য কৈলাশি প্রতিদিনের মতো সাইকেলে চেপে তাজমহলে এসেছিলেন। ঐতিহাসিক সৌধটির পশ্চিম প্রবেশদ্বার দিয়ে কর্মস্থলে ঢোকার ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি হঠাৎ তীব্র শারীরিক অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রক্তবমি করতে শুরু করেন। তাঁর এই আকস্মিক শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে ওঠেন। দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ঠিক কী কারণে ওই কর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যু ঘটল, তা এখনও পর্যন্ত চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার নয়। মৃত্যুর প্রকৃত ও সঠিক কারণ উদঘাটন করার জন্য মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তাজমহল কতৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ নাকি হঠাৎ কোনো মারাত্মক হৃদরোগ বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পাশাপাশি সম্প্রতি আরও একটি ভিন্ন কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে ঐতিহাসিক তাজমহল চত্বর। দেশজুড়ে যখন পবিত্র ‘সাওন’ মাস বা শ্রাবণ মাস উদযাপিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার বেশ কিছু প্রতিনিধি তাজমহলকে প্রাচীন শিব মন্দির তথা ‘তেজো মহালয়া’ বলে দাবি করে সৌধের ভেতরে প্রবেশ করে জল ঢালার ও পূজা অর্চনার চেষ্টা করেন। তবে তাজমহলের কড়া নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিশ কর্মীরা সময়মতো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাঁদের মূল গেটেই আটকে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌধের বাইরে সাময়িক উত্তেজনা ও বচসার সৃষ্টি হয়, পরবর্তীতে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে নিকটবর্তী অন্য একটি মন্দিরে নিয়ে যায়। প্রসঙ্গত, তাজমহল আদতে কোনো মুঘল স্থাপত্য নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন শিব মন্দির ছিল—এই দাবিতে অতীতেও একাধিক মামলা ও আইনি লড়াই হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসেই তাজমহল চত্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কেন্দ্র সরকার ও এএসআই (ASI)-এর কাছে জবাব তলব করেছিল। ঐতিহাসিক সৌধের নিরাপত্তা, প্রত্নতাত্ত্বিক বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক এই কর্মীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহরটি জাতীয় স্তরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।