এবার একেবারে বাজারে নিষিদ্ধ হলো আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডের মদ! নাম প্রকাশ পেতেই দেশজুড়ে হাহাকার

সুরাপ্রেমীদের জন্য এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং হতাশার খবর নিয়ে এল ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ (FSSAI)। ডিয়াজিও ইন্ডিয়ার ইউনাইটেড স্পিরিটস, ইনব্রু বেভারেজেস এবং মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার-এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির তৈরি বেশ কিছু অত্যন্ত জনপ্রিয় হুইস্কি ও রামের বিক্রি বন্ধ করার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই নিষিদ্ধ ঘোষিত তালিকার সামনে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ এই তালিকায় যেমন রয়েছে কিংবদন্তি রাম ‘ওল্ড মঙ্ক’-এর নাম, তেমনই রয়েছে ‘রয়্যাল চ্যালেঞ্জ হুইস্কি’ এবং ‘অ্যান্টিকুইটি ব্লু’-র মতো বিখ্যাত ও বহুল ব্যবহৃত সব ব্র্যান্ডের নাম।
FSSAI-এর পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, হুইস্কি ও রামের মতো কড়া পানীয়গুলির আসল স্বাদ এবং স্বতন্ত্র সুবাস মূলত প্রাকৃতিক উপাদান এবং দীর্ঘমেয়াদি ফার্মেন্টেশন বা এজিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে যে এই সংস্থাগুলি তাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত রাসায়নিক ফ্লেভার মিশিয়ে গ্রাহকদের বিক্রি করছিল, যা সম্পূর্ণভাবে খাদ্য সুরক্ষা নিয়মের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলি হুইস্কিতে আলাদা করে হুইস্কির ফ্লেভার এবং রামে রামের কৃত্রিম ফ্লেভার মিশিয়ে বাজারে ছাড়ছিল। নিয়মানুযায়ী, খাবারে বা পানীয়তে কোনো অতিরিক্ত ফ্লেভার যোগ করলে পণ্যের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘ফ্লেভার্ড স্পিরিট’ বা ‘রাম-ফ্লেভার্ড স্পিরিট’ কথাটি লেবেল হিসেবে উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক, যা এই ভ্যারিয়েন্টগুলির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। FSSAI আরও জানিয়েছে যে, ভারতে মদ তৈরিতে কিছু ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ফ্লেভার অনুমোদিত হলেও কঠোর ল্যাব টেস্টে ধরা পড়েছে যে এই কোম্পানিগুলির নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচে সরাসরি ক্ষতিকর কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলেই ওই সমস্ত নির্দিষ্ট পণ্যকে নিম্নমানের বা ‘সাব স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি।
নিষিদ্ধ হওয়া মদের দীর্ঘ তালিকার মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে জনপ্রিয় ‘ওল্ড মঙ্ক’-এর তিনটি বিশিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট। এগুলি হলো— ‘দ্য লিজেন্ড’, ‘গোল্ড রিজার্ভ’ এবং ‘এক্সএক্সএক্স ম্যাচুয়েড রাম’। মহারাষ্ট্রে মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার কারখানায় উৎপাদিত এই তিনটি জনপ্রিয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। FSSAI জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম মেনে এজিং বা পরিপক্ব করার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কৃত্রিম ফ্লেভারের মাধ্যমে এগুলি তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে এই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডগুলি বাজার থেকে আপাতত উধাও হয়ে যাবে।
এই তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউনাইটেড স্পিরিটসের বারাবতি কারখানায় তৈরি ‘ম্যাকডাওয়েলস্ নাম্বার ওয়ান’, জনপ্রিয় ‘ব্যাগপাইপার ডিলাক্স হুইস্কি’, ইনব্রু বেভারেজের মধ্যপ্রদেশ কারখানায় তৈরি ‘ওল্ড কাস্ক ডিলাক্স এক্স এক্স এক্স রাম’, এবং ইউনাইটেড স্পিরিটসের মধ্যপ্রদেশ প্ল্যান্টে উৎপাদিত ‘অ্যান্টিকুইটি ব্লু’ ও ‘রয়্যাল চ্যালেঞ্জ হুইস্কি’। FSSAI-এর গভীর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, শুধুমাত্র এজিংয়ের সমস্যাই নয়, বরং এই ব্র্যান্ডগুলির লেবেলিংয়ে বড় ধরনের প্রতারণাও করা হচ্ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ওল্ড মঙ্কের বোতলের গায়ে বড় বড় অক্ষরে ‘7 Years Old Blended’ লেখা থাকলেও ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ওই তরলের পঁচানব্বই শতাংশেরও বেশি অংশ ছিল সম্পূর্ণ আন-এজড স্পিরিট বা কাঁচা মদ, যেখানে আসল ম্যাচ্যুরড বা পুরানো রামের পরিমাণ পাঁচ শতাংশের চেয়েও অনেক কম ছিল। ফলে প্রকৃত বয়সের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে না পারায় এই ভ্যারিয়েন্টগুলিকে কঠোর হাতে নিষিদ্ধ করেছে FSSAI। মাসের ঠিক প্রারম্ভেই এই আকস্মিক ও বড়সড় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসায় সাধারণ সুরাপ্রেমীদের কপালে রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।