চোখের নিমেষে খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা! সুজাপুরে প্রৌঢ়ের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার কালিয়াচকের সুজাপুর এলাকা এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাক্ষী থাকল, যা গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আরিফ আলি এবং তাঁর অনুগামী তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে এক প্রৌঢ়কে অত্যন্ত নির্মমভাবে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আক্রান্ত ইসরাফিল শেখ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে, যার ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সকলেই বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ তাদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ইসরাফিল শেখ নামের ওই প্রৌঢ় প্রতিদিনের মতো নিজের ছাগলের খামার থেকে ফিরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে গিয়েছিলেন। তিনি পেঁপে গাছে কীটনাশক স্প্রে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই পিছন দিক থেকে কয়েকজন দুষ্কৃতী অতর্কিত আক্রমণ চালায়। অভিযোগ উঠেছে, সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আরিফ আলি সহ তাঁর অনুগামীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা মাথায়, ঘাড়ে, বুকে ও পেটে একের পর এক কোপ বসায়। এখানেই শেষ নয়, হিংস্রতার মাত্রা এতটাই চরম ছিল যে প্রৌঢ়ের ডান হাতটি শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং একটি কানও কেটে নেওয়া হয়। এরপর আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পরপর দু’রাউন্ড গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ।

আক্রান্তের স্ত্রী সাহেদা খাতুন কালিয়াচক থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অত্যন্ত কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর স্বামী কারোর সঙ্গেই কোনো শত্রুতা ছিল না এবং তিনি কেবল নিজের কাজে বাগানটিতে গিয়েছিলেন। হামলাকারীরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে তিনি আরও জানান যে চোখের পলকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।