“৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চান, না হলে আইনি পদক্ষেপ!” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষানলে রাজ্যের হেভিওয়েট বিধায়ক!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক কোন্দল এবং দ্বন্দ্ব যে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার আরও এক বিস্ফোরক প্রমাণ সামনে এল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের প্রভাবশালী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে দলেরই প্রবীণ ও হেভিওয়েট বিধায়ক মদন মিত্রকে একটি কড়া আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব আইনজীবী শ্রবণা সেনগুপ্ত ই-মেলের মাধ্যমে এই আইনি নোটিশটি পাঠিয়েছেন। প্রেরিত নোটিশের বয়ান অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র তাঁর অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন। সেই লাইভ সম্প্রচার চলাকালীন তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে একাধিক অত্যন্ত “মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর” মন্তব্য করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, ওই ফেসবুক লাইভের প্রায় ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় মদন মিত্র সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে “অপরাধী” ও “খুনি” বলে প্রকাশ্যে কটূক্তি করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে সুপারি কিলার (Supari Killer) ব্যবহার করানোর মতো একাধিক অত্যন্ত গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগও তোলেন তিনি। নোটিশে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, মদন মিত্রের তোলা এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিন্দুমাত্র কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এগুলি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও মানহানিকর।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে যে, মদন মিত্রের সেই বিতর্কিত লাইভ ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সর্বভারতীয় স্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক মর্যাদা এবং জনমানসে তাঁর সম্মান ও কদর মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মদন মিত্রকে অবিলম্বে এই ধরনের কুরুচিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই আইনি নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে লিখিত এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা প্রদান করারও জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিশাল অংকের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং একটি রেজিস্টার্ড বা নিবন্ধিত ট্রাস্টে জমা রাখা হবে। মূলত দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনা করা এবং রাজনৈতিক হিংসার বলি বা শিকার হওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক কাজে ওই অর্থ ব্যয় করা হবে।

নোটিশের শেষাংশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি এই সমস্ত দাবি পূরণ করা না হয়, তবে মদন মিত্র এবং এই সম্পূর্ণ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি (Civil) ও ফৌজদারি (Criminal)—উভয় প্রকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত তথ্যগুলি সম্পূর্ণভাবে শেয়ার করা আইনি নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগ ও আইনি দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলি নোটিশদাতার আইনগত দাবি মাত্র, আদালতের দ্বারা প্রমাণিত কোনো চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে এগুলিকে উপস্থাপন করা হয়নি।