“সব প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে!” ভোটের ময়দান থেকে সরে হঠাৎ কেন এমন বড় ঘোষণা CJP প্রধানের?

ছাত্র আন্দোলনের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে রাতারাতি চর্চায় উঠে আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবার তাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত রণকৌশলে এক বিরাট বদল আনল। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের দল আর গতানুগতিক ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং এখন থেকে একটি শক্তিশালী ‘প্রেশার গ্রুপ’ বা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে দেশজুড়ে কাজ করবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, মূলধারার মিডিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্বচ্ছতা, সততা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টি করাই হবে তাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অত্যন্ত জোরালো সুরে বলেন, “এই মুহূর্তে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর যা প্রকৃত প্রয়োজন, তা হলো একটি জোরালো চাপ তৈরির গোষ্ঠী। তাই ককরোচ জনতা পার্টি আপাতত সেই জনমুখী প্রেশার গ্রুপের ভূমিকাই পালন করবে।” তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও যোগ করেন, “আজকে তা সে আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হোক কিংবা বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ মিডিয়া হোক বা নির্বাচন কমিশন—দেশের সাধারণ মানুষ আজ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকেই তাদের সমস্ত আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের সাম্প্রতিক আন্দোলন শুধু সুনির্দিষ্ট শিক্ষার গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিখাদ নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে হলে একটি সর্বব্যাপী গণ-আন্দোলন এবং জনগণের প্রবল চাপ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। আমার ব্যক্তিগত মতে, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা এই মুহূর্তে অত্যন্ত শোচনীয় ও খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলেছে।”
শুধু দিল্লি বা শিক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলনই নয়, এবার ভিনরাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল সিজেপি। অভিজিৎ দিপকে এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি (JPSC), জেএসএসসি সিজিএল (JSSC CGL) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ব্যাপক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে যে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের দল সেই সমস্ত ছাত্র আন্দোলনের পাশে সম্পূর্ণভাবে আছে। প্রয়োজনে তাঁরা খুব শীঘ্রই ঝাড়খণ্ডেও সশরীরে উপস্থিত হবেন। এই প্রসঙ্গে দিপকে বলেন, “আমরা অবশ্যই ঝাড়খণ্ডে যাব। সেখানে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে আমাদের দল সর্বদাই রয়েছে এবং তাদের প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত দাবিকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।”
ভবিষ্যতের রূপরেখা ও দলের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে সিজেপি প্রধান বলেন, “এখন আমাদের মূল কাজ হলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা যে কীভাবে সারা দেশজুড়ে আমাদের এই আন্দোলনকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করা যায়। ভারতের প্রত্যেকটি রাজ্যে কীভাবে সংগঠনকে মজবুত করা সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হবে। CJP-র ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ঠিক কী হবে, কোন কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আমাদের নেওয়া উচিত, সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই মূলত এই আলোচনা চলবে। এককথায় বলতে গেলে, আমাদের এই দু’দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট রণকৌশল পাকা করা হবে।”
তিনি আরও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে যোগ করে বলেন, “ঝাড়খণ্ডের চলমান বিক্ষোভে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরাও সেখানে গিয়ে যোগ দেব। আগামী দু’দিন ধরে আমাদের দলের কোর মেম্বারদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলবে এবং এই বৈঠক শেষ হওয়ার পর আগামী কাল দুপুর ঠিক ২টোর সময় আমরা একটি সাংবাদিক সম্মেলন করব। আমাদের এই অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ঠিক যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার সমস্তটাই প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল এবং কর্মপন্থা ঠিক করতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের দলের শীর্ষ কোর টিমের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’দিনের বৈঠকটি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আগামী ৫ আগস্ট থেকেই এই বৈঠক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র জল্পনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।