তুরস্কে বসেই কি সব দেখছেন পাথর মাফিয়া টুলু? শ্বশুরবাড়িতে পুলিশের বিশেষ হানা হতেই সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য!

পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে চলা মেগা তদন্তে এবার তার শ্বশুরবাড়িতে হানা দিল বীরভূম পুলিশের একটি বিশেষ দল। বুধবার সকাল থেকেই বীরভূমের পাড়ুইয়ে মহম্মদ নুরুল হকের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি অভিযান চলছে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, মোস্ট ওয়ান্টেড এই পাথর মাফিয়া প্রায় নিয়মিতভাবেই তার এই শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করত।

বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বন্দেশ জানিয়েছেন যে, গত ২৯ জুলাই মহম্মদবাজারে পাথর মাফিয়া মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিয়ে চোখ কপালে তোলার মতো সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি বিদেশি সোনার বাট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৩০ জুলাই সিউড়িতে টুলুর তিনটি পৃথক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেগুলি সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই টুলুর ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২২০ কোটি টাকা, ৪০০ বিঘা জমি এবং ২৪০টি বিলাসবহুল ডাম্পার আইনগতভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হলেও মূল অভিযুক্ত টুলু এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে ও পলাতক রয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে পুলিশ বাহিনী বাড়ির অন্দরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, টুলুর শ্বশুর মহম্মদ নুরুল হককে মুখোমুখি বসিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, টুলুর শ্যালকদের নামেও বেশ কয়েকটি ডাম্পার রেজিস্টার্ড রয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ নতুন করে শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। টুলুর এক আত্মীয় মহম্মদ নজিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমার বাড়িতেও পুলিশ এসেছিল এবং সবকিছু তল্লাশি করে দেখেছে। আমি সাধারণ ধানের ব্যবসা করি, টুলুর সঙ্গে আমার কোনওদিনই কোনও ব্যবসায়িক বা আর্থিক যোগাযোগ ছিল না। টুলুর শ্বশুরবাড়ি আমার বাড়ির পাশেই। সেখানে পুলিশ এখনও তদন্ত চালাচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে সবরকম সহযোগিতা করেছি, কারণ আমরা কোনও অন্যায় করিনি।”

উল্লেখ্য, প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত টুলুর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তদন্তকারীদের জোরালো দাবি, সরকারের ভ্যাট ও কর ফাঁকি দিয়েই টুলু এই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছে। এই সমস্ত অর্থ আদতে সাধারণ মানুষেরই টাকা। ইতিপূর্বেই সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর নিজস্ব বাড়িতেও তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। পুলিশের মূল লক্ষ্য এখন এটাই খুঁজে বের করা যে, টুলু তার উপার্জিত কালো টাকা দেশের আর কোথায় কোথায় লুকিয়ে রেখেছে। সেই খোঁজেই তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বাড়িতে চলছে এই চিরুনি তল্লাশি।

এদিকে, সিউড়ির বাড়িতে পুলিশি হানার খবর পেতেই জানা যাচ্ছে যে, পাথর মাফিয়া টুলু সপরিবারে বর্তমানে তুরস্কে ছুটি কাটাচ্ছেন। সেখানে বসেই নাকি তিনি তাঁর এই অপরাধ জগতের সাম্রাজ্যে একের পর এক পুলিশি হানার খবর পাচ্ছেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, টুলু ভারত থেকে সরাসরি দুবাই হয়ে তুরস্কে পালিয়ে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ে নাকি তার নিজস্ব একটি বিলাসবহুল রিসর্টও রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।