গভীর রাতে মদের আসরে তুলকালাম! হাওড়ার লিলুয়ায় শ্যুটআউটে রক্তাক্ত যুবক, মোক্ষম খতিয়ে দেখছে পুলিশ

হাওড়ার লিলুয়ায় ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর শ্যুটআউটের ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে লিলুয়ার বার্মা কলোনি এলাকায় মদের আসর চলাকালীন আচমকাই গুলিবিদ্ধ হন এক যুবক। এই আকস্মিক রক্তারক্তিতে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং আহত যুবক বর্তমানে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত ওই যুবক স্থানীয়ভাবে ‘মালিঙ্গা’ নামে পরিচিত। মঙ্গলবার গভীর রাতে বার্মা কলোনি সংলগ্ন একটি অন্ধকার এলাকায় নিয়মিত মদের আসর বসেছিল। সেই আসরে মালিঙ্গা এবং তার এক বন্ধু বা অন্যান্য সহযোগীরা উপস্থিত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মদ্যপানের নেশা যখন চড়েছিল, ঠিক সেই সময়ই দুই বন্ধুর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বচসা শুরু হয়। সেই বাকবিতণ্ডা মুহূর্তের মধ্যে চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ উঠেছে, সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মালিঙ্গাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায় অভিযুক্ত সঙ্গী।
গুলিটি সোজা যুবকের শরীরে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে এবং রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে হুলুস্থুল পড়ে যায়। হামলাকারী ও তার সঙ্গীরা পরিস্থিতি বুঝে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চম্পট দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মালিঙ্গাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পুরোনো কোনো ক্ষোভের জেরেই মদের আসরে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে লিলুয়ার যে অঞ্চলে এই শ্যুটআউট সংঘটিত হয়েছে, সেই সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ প্রচুর পরিমাণে অবৈধ মদের বোতল ও সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত বেআইনি মদের আড্ডা চলত। স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ওই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই রাতে মদ্যপদের উপদ্রব ও আড্ডা বসত।
বর্তমানে লিলুয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। পলাতক অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের নাগাল পেতে আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আহত যুবকের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ সন্দেহভাজনদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে। অপরাধীদের অতি শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।