ভিনরাজ্যে পাচার হচ্ছিল লাখ লাখ টাকার লোহিত কণিকা ও প্লাজমা! পর্দাফাঁস হতেই বাতিল হল লাইসেন্স

সরকারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বেআইনিভাবে ভিনরাজ্যে রক্ত ও প্লাজমা পাচারের গুরুতর অভিযোগে লাইসেন্স বাতিল করা হলো দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের ‘হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্ক’-এর। স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল বা এসবিটিসি (SBTC)-র জোরালো সুপারিশের ভিত্তিতে এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ কারবারের রমরমা রুখতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাংকগুলির বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার প্লাজমা বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে হাজরার ‘পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক’-এর কর্তাব্যক্তিদের তলব করেছে স্বাস্থ্যভবন। গত সোমবারই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ আধিকারিকরা ওই ব্লাড ব্যাঙ্কে আচমকা অভিযান চালান। তল্লাশির সময় অফিসাররা দেখতে পান যে, একটি ছোট ফ্রিজারের ভেতরে গাদাগাদি করে ঠাসা রয়েছে শয়ে শয়ে ইউনিট রক্ত ও প্লাজমা। এখানেই শেষ নয়, ব্লাড ব্যাঙ্কের অন্দরে পড়ে থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন তৃণমূল নেতার নামে ‘ফ্রি’ লেখা একাধিক রবার স্ট্যাম্পও, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় ৫৭০টি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করে ৪২ হাজার ৮৪২ প্যাকেট রক্ত সংগ্রহ করেছিল এই হাজরার ব্লাড ব্যাঙ্কটি, যা সাধারণ চাহিদার তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাড়ে তিনশো মিলিলিটারের প্যাকেটে সংগ্রহ করা হচ্ছিল পাঁচশো মিলিলিটার পর্যন্ত রক্ত। মূলত অতিরিক্ত প্লাজমা বিক্রির লোভেই বিভিন্ন উপহারের টোপ দিয়ে সাধারণ রক্তদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রক্ত আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।
এর আগে কলকাতার একাধিক নামী কর্পোরেট হাসপাতাল সহ রাজ্যের মোট ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কে যৌথ অভিযান চালিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যভবনকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেই ভিনরাজ্যে লাখ লাখ টাকার রক্ত ও প্লাজমা পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ভিনরাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকার পিআরবিসি (PRBC) বা প্যাকড রেড ব্লাড সেল এবং ৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার এফএফপি (FFP) বা ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা বিক্রি করা হয়েছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকার লোহিত কণিকা ও প্লাজমা বেআইনিভাবে পাচার হয়েছে ভিনরাজ্যে। এই চরম অনিয়মের জেরে ইতিমধ্যেই ওই ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ক্যাম্প থেকে রক্ত সংগ্রহের উপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি সহ মোট পাঁচটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।