রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পরই বিজেপিতে চরম কোন্দল! পাথরপ্রতিমার উন্নয়ন বৈঠকে হাতাহাতি-বিক্ষোভে তুলকালাম কাণ্ড

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর কিছুদিনের মধ্যেই বিরোধী দল বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমায় সম্প্রতি একটি উন্নয়নমূলক বৈঠককে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সোমবার বিকেলে রামগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাঘরে স্থানীয় বিধায়ক সমীরকুমার জানার উদ্যোগে ওই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর সেই বৈঠককে ঘিরেই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা এবং হাতাহাতির ঘটনা।
বিজেপির একাংশ ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীর অভিযোগ, বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরপর দু’বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী থাকা অসিত হালদারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদে দলের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। সেই ক্ষোভ পরবর্তীতে সরাসরি সভাস্থলে বিক্ষোভ, বাগবিতণ্ডা, ঠেলাঠেলি এবং হাতাহাতির রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৈঠক চলাকালীন অসিত হালদারের অনুগামীরা সভাকক্ষে প্রবেশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাঁদের জোরালো দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য লড়াই করা একজন প্রবীণ নেতাকে বাদ দিয়ে যে বৈঠক ডাকা হয়েছে, তা সংগঠনের পক্ষে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে এতদিন বিজেপি পাথরপ্রতিমা এলাকায় দুর্নীতি ও বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র আন্দোলন চালিয়েছে, সেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে একই টেবিলে বসে বৈঠক করা দলের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অসিত হালদারের অনুগামী সমরেন্দু মাইতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, যাঁরা উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দিচ্ছেন এবং দুর্নীতির সঙ্গে আপস করছেন, তাঁদের বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, পাথরপ্রতিমা ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম মাইতি জানান যে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে জনসমক্ষে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
এই বিতর্কের মাঝেই বিজেপির পাথরপ্রতিমা বিধানসভার কনভেনার নন্দলাল বারুই বৈঠকে যোগদানের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে জেলা সভাপতি ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই সুন্দরবনের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন। মানুষের স্বার্থে উন্নয়নের প্রশ্নে আলোচনায় অংশ নেওয়াকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয় বলে তাঁর মত। তবে নন্দলাল বারুইয়ের করা ‘চার তারিখের পরের বিজেপি’ মন্তব্যটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, পাথরপ্রতিমার এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় বিজেপির স্থানীয় সংগঠনের অন্দরের ফাটল এখন সকলের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।