বুমরার হঠাৎ ছিটকে যাওয়া ঘিরে উত্তাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড! নির্বাচক কমিটির সঙ্গে চরম সংঘাতে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স

শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রাক্কালে তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরার হঠাৎ দল থেকে ছিটকে যাওয়া ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। দিন কয়েক আগেই খবর মিলেছিল যে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরছেন বুমরা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁর ছিটকে যাওয়ায় জাতীয় দলে সুযোগ পান আকিব নবি। এই আকস্মিক ঘটনার পরেই বোর্ডের জাতীয় নির্বাচক কমিটি এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্স বা কোয়ের (CoE) মধ্যকার গোপন দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কেন বুমরার ফিটনেস সমস্যা পুরোপুরি দূর হলো না এবং সময়মতো কেন তাঁকে মাঠে নামানো গেল না, সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর সহ অন্যান্যরা।

ক্রিকেট মহলের বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ক্রিকেটারের চোট পাওয়ার ঘটনা এবং তাদের রিহ্যাব প্রক্রিয়া এই দুই সংস্থার মধ্যকার উত্তেজনার প্রধান কারণ। তবে জসপ্রীত বুমরার মতো গুরুত্বপূর্ণ বোলারের ফের চোট পাওয়ার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। কড়া নজরদারি এবং নিয়মের মধ্যে থাকার পরেও শেষ মুহূর্তে বুমরার বাদ পড়ার বিষয়টি একদমই ভালোভাবে নেয়নি বিসিসিআই কর্তৃপক্ষ। এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সঠিক জবাবদিহি চাইতে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর।

শুধুমাত্র জসপ্রীত বুমরা একা নন, বরুণ চক্রবর্তী বা অন্যান্য উদীয়মান তারকাদের বারবার চোট পাওয়ার ঘটনায় নির্বাচক কমিটি ভীষণভাবে বিরক্ত। হর্ষিত রানা, ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা নীতিশ রেড্ডিদের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের ক্রমাগত চোটের কবলে পড়ার পেছনে ফিটনেস ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে কি না, সেই গুরুতর প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, খেলোয়াড়দের পুনর্বাসন বা রিহ্যাব প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়েও এখন বোর্ডের অন্দরে সংশয় তৈরি হয়েছে। খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রোটোকলগুলো সঠিকভাবে এবং কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

অতীতে নিতীন প্যাটেল পদত্যাগ করার পর থেকে ভারতীয় বোর্ডে বর্তমানে স্থায়ী কোনো স্পোর্টস ডিরেক্টর নেই। এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন স্পোর্টস ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ধনঞ্জয় কৌশিক। তবে আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের মানোন্নয়নে বিসিসিআই যে বিশেষ বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করেছে, সেখানে ধনঞ্জয় কৌশিকের ভূমিকা এবং খেলোয়াড়দের ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে কজরদারির আওতায় রাখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ফিটনেস সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।