ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতি! নয়াদিল্লির কাছে অবস্থান স্পষ্ট করার কড়া বার্তা ঢাকার

আগামীকাল বুধবার নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাইউথ এশিয়া (FCCSA) আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এই বিষয়ে গত সোমবার গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে একটি দূরদর্শী ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। সেই দ্বিপক্ষীয় অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটুক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে এই বিষয়ে ভারতীয় পক্ষকে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করতে হবে বলে জোরালো দাবি তুলেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, পলাতক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়া হলে তা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে ইতিপূর্বেও বারবার তীব্র উদ্বেগের কথা লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লির এই আসন্ন অনুষ্ঠানটি সরাসরি ভারত সরকারের কোনো সরকারি আয়োজক সংস্থার নয়, বরং একটি স্বাধীন সংবাদিক ক্লাবের উদ্যোগ—সেটি স্বীকার করেও ঢাকা জানিয়েছে যে, প্রয়োজনে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এমন একটি অনুষ্ঠানে তাঁর রাজনৈতিক বা ভার্চুয়াল উপস্থিতি দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।