দিল্লিতে এনডিএ বৈঠকে বয়কট তৃণমূলত্যাগী তিন সাংসদের! মোদি-ঘনিষ্ঠ এই শিবিরে কি ভাঙন অবধারিত?

দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় হঠাৎ করেই তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নবগঠিত এনসিপিআই-এর ব্যানারে যোগ দেওয়া সাংসদদের নিয়ে মঙ্গলবার দিল্লিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের ঠিক আগে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি টানটান বৈঠক সকলের নজর কাড়ে। এরপর একে একে শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা এনডিএ-র সঙ্গে আয়োজিত এই বৈঠকে যোগ দিতে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু সবার উপস্থিতির মাঝেও এমন তিনজনের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে এক বিরাট প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যাঁদের ঘিরে জল্পনা গত মিটিং থেকেই তুঙ্গে ছিল।
সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো এনডিএ-র এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন এনসিপিআই-এর তিন সংখ্যালঘু সাংসদ—আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং প্রখ্যাত ক্রিকেটার তথা সাংসদ ইউসুফ পাঠান। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এনসিপিআই-এর সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক সখ্য বা মিশে যাওয়ার জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই এই তিন সাংসদের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি মূলত দলের অন্দরে থাকা তীব্র মতপার্থক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্বেরই স্পষ্ট ছবি তুলে ধরছে।
বৈঠক শেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ আবু তাহের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমরা এনডিএ-তেও নেই, বিজেপির দলেও নেই।” তবে এনডিএ-র বৈঠক এড়িয়ে গেলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে তাঁরা যে পূর্ণ সসম্মানে অংশ নেবেন, সেকথাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই তিন নেতা। আবু তাহেরের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শগত হাজারও পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণ বজায় রাখার স্বার্থেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন এলাকার এই তিন সাংসদ কি তবে বিজেপির প্রত্যক্ষ ছোঁয়া ও রাজনৈতিক অস্বস্তি এড়াতেই এই সুকৌশলী দূরত্ব বজায় রাখছেন? এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন দিল্লিতে এনডিএ শিবিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতেও এক চরম জটিল ও রহস্যময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতা—রাজনীতির পারদ এখন চড়চড় করে ঊর্ধ্বমুখী।