৩০ পেরনোর আগেই এই ছোট্ট কৌশল জানুন, রিটায়ারমেন্টের আগেই হাতে আসবে ১ কোটি টাকা

প্রতিটি মধ্যবিত্ত মানুষের মনেই কোটিপতি হওয়ার এক সুপ্ত স্বপ্ন অবলীলায় ঘোরাফেরা করে। অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষার খরচ সামলানো কিংবা জীবনের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে চরম আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রত্যেকেই একটি মোটা অঙ্কের তহবিল তৈরি করতে চান। বর্তমান যুগের আর্থিক বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করেন যে, প্রথাগত সঞ্চয়ের দিন শেষ। আজ ফিনান্সিয়াল মার্কেটে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও সুশৃঙ্খল উপায়ে বিনিয়োগ করলে এই বিশাল লক্ষ্য খুব সহজেই অর্জন করা সম্ভব। মিউচুয়াল ফান্ডের দুনিয়ায় নিয়মিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে টাকা রাখলে চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুকরি শক্তি এক অভাবনীয় ও বিরাট আর্থিক তহবিল গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

এসআইপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে প্রতিদিন বা প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট ও ছোট অঙ্কের টাকা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যায়। এর ফলে শেয়ার বাজারের দৈনন্দিন ওঠানামা নিয়ে আলাদা করে মাথা ঘামাতে হয় না বা সঠিক সময় বেছে নেওয়ার কোনো ঝক্কি থাকে না। আপনি যদি ঠিক জীবনের ২৫ বছর বয়সে এই বিনিয়োগের শুভ সূচনা করতে পারেন, তবে রিটায়ারমেন্টের বয়স অর্থাৎ ৬০ বছর পর্যন্ত আপনার হাতে সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের সময় থাকে। বিশেষজ্ঞরা হিসাব কষে দেখিয়েছেন যে, এই সময়ে বছরে গড়ে আনুমানিক ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরে চললে, আপনাকে মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা করে এসআইপিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এর ফলে ৩৫ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র ৮.৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে সম্ভাব্য রিটার্ন আসবে প্রায় ১.০২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ শেষে আপনার হাতে থাকা মোট তহবিলের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাবে ১.১ কোটি টাকা।

তবে বয়স একটু বাড়লেও আশাহত হওয়ার কিছু নেই। আপনি যদি ৩০ বছর বয়সে এই যাত্রা শুরু করেন, তবে ৩০ বছরের জন্য আপনাকে প্রতি মাসে প্রায় ৩,৩০০ টাকা করে জমাতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ১১.৮৮ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য তহবিল গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১.০২ কোটি টাকায়। অন্যদিকে, বয়স যদি ৩৫ বছর হয়ে যায়, তবে মাসিক এসআইপির পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৬,০০০ টাকা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ২৫ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ১৮ লক্ষ টাকা এবং পরিপক্বতা শেষে আপনার পকেটেও আসতে পারে ঠিক ১.০২ কোটি টাকা। কিন্তু আপনি যদি একেবারে ৪০ বছর বয়সে এসে বিনিয়োগ শুরু করার কথা ভাবেন, তবে হাতে সময় থাকবে মাত্র ২০ বছর। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বছরে ১২ শতাংশ সম্ভাব্য রিটার্ন ধরে ১ কোটির বেশি তহবিল গড়তে হলে আপনাকে প্রতি মাসে অন্তত ১১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। যেখানে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ২৬.৪ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য তহবিল হবে প্রায় ১.০১ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করিয়ে দেন যে, এই সমস্ত হিসাব নিছকই একটি গাণিতিক উদাহরণ এবং বার্ষিক ১২ শতাংশ সম্ভাব্য রিটার্নের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। মিউচুয়াল ফান্ডে করা সমস্ত বিনিয়োগই মূলত শেয়ার বাজারের বিভিন্ন ঝুঁকির অধীন। তাই প্রকৃত রিটার্ন বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ফান্ডের স্কিম পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তনশীল হতে পারে।