‘কেউ যেন আমাকে ভুলে না যায়!’ চরম গোপনীয়তায় তরুণ আন্দোলনকারীর ফাঁসি নিয়ে উত্তাল বিশ্ব

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মাত্র ২০ বছর বয়সী এক তরুণ আন্দোলনকারী আরভিন খেইরখাহর (Arvin Kheirkhah) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশজুড়ে চলা চরম তীব্র গণআন্দোলনের উত্তাল সময়ে তাঁকে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে ইরানের বিশেষ বিপ্লবী আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ বা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো অত্যন্ত গুরুতর ও সাজানো রাষ্ট্রদ্রোহী অভিযোগ এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ জারি করে। শাহরুদ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ও একাকী বন্দিদশায় রেখে সুকৌশলে তাঁর এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়, যা নিয়ে মানবাধিকার মহলে চরম ধিক্কার উঠেছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই মর্মান্তিক খবর চাউর হওয়ার আগে থেকেই খেইরখাহর পরিবার ও প্রিয়জনেরা কারাগারের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে উৎকণ্ঠায় জড়ো হয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে ফাঁসিকাঠে ঝোলার আগে শেষ বিদায়ে স্বজনদের উদ্দেশে এই তরুণ সংগ্রামী এক অবিস্মরণীয় ও নাড়িয়ে দেওয়া বার্তা দিয়ে যান। তিনি স্পষ্টভাষায় বলে গিয়েছিলেন, “আমাকে কেউ যেন কখনো ভুলে না যায়। আমরা আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার পবিত্র লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, তাই আমাদের এই আত্মত্যাগের পথকে যেন কোনোভাবেই স্তব্ধ বা ম্লান হতে দেওয়া না হয়।” এই হৃদয়বিদারক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে ইরানের নির্বাসিত প্রাক্তন ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেছেন যে, তেহরানের এই দমনমূলক শাসনব্যবস্থার কারণে আরও বহু তরুণ বিক্ষোভকারী বর্তমানে ফাঁসির চরম ও অবধারিত ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। জাভেদ আজম, মোর্তেজা জামানি ও মেহেদি রঞ্জারের মতো অন্তত আধডজন তরুণ রাজবন্দির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তাঁদের জীবন বাঁচানোর বিশ্ববাসীর কাছে আকুতি জানানো হচ্ছে।

এর আগে ইরানের ইসফাহানের আলিখানি স্কোয়ারে আমিরহোসেন সাফারি ও আবোলফজল সেপাহি নামের আরও দুই তরুণকে নৃশংসভাবে জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও কণ্ঠ রোধ করতে তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব, নিষ্ঠুর দমনপীড়ন এবং একের পর এক কঠোর সাজার নীতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জোয়ার তুলেছে। জাতিসংঘ এবং বিশ্বের প্রথম সারির মানবাধিকার সংগঠনগুলি রুদ্ধদ্বার বিচারপ্রক্রিয়া, আসামিদের আইনজীবীর সহায়তা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের নূন্যতম সুযোগ না দেওয়া এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করার মতো অমানবিক বিষয়গুলি নিয়ে অত্যন্ত তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংকটের ও অস্থিরতার অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে তেহরান প্রশাসন যেভাবে মৃত্যুদণ্ডকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নাগরিকদের প্রতিবাদী কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে সমালোচনার ঝড় বইছে।