শ্রাবণের মাঝেই হাওয়া অফিসের বড় ধাক্কা! ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস কোথায়?

দক্ষিণবঙ্গজুড়ে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর গরম এবং ভ্যাপসা আবহাওয়ার মাঝেই রাজ্যজুড়ে দুর্যোগের পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। সকাল থেকেই আকাশে জলভরা মেঘের ঘনঘটা এবং দুপুর গড়ালেই বজ্রপাত সহ মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পের লাগাতার প্রবেশ এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জোড়া প্রভাবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী বুধবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ওপরের দিকের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার কিছু কিছু অংশে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও অতি প্রবল বৃষ্টিরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস সোমবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া মূলত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এবং শুক্রবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকায় দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আলিপুর দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে।
আজ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এছাড়া আগামিকাল বুধবার থেকে তিন জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার জেরে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলা বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সুখবর হলো, আগামী শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ অনেকটাই কমে যাবে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার পাঁচ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা ছাড়াও উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার এই ভারী ও অতি বৃষ্টির জেরে ধস নামার আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনই নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং শুক্র ও শনিবার আপাতত কোনো বড় সতর্কতা থাকছে না।
এদিকে শহর কলকাতার আবহাওয়া প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, আপাতত এখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কম থাকবে। বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা ঝিরঝিরে বা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু বৃষ্টি না হলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৮ ও সর্বনিম্ন ৬৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।