ভোটের পর থেকেই উধাও! তৃণমূল ছেড়ে কি এবার বিজেপির পথে পা বাড়াচ্ছেন হেভিওয়েট চিকিৎসক-নেত্রী শশী পাঁজা?

রাজ্যের রাজনীতিতে ফের এক নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দলীয় স্তরে আর সেভাবে দেখা মিলছিল না তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী, বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজার। ভোটের পর থেকে তাঁর এই রহস্যময় দূরত্ব বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাই সমস্ত জল্পনাকে উসকে দিয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন শশী পাঁজা। আর এই বৈঠকের পরই রাজনৈতিক মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত শিবির ছাড়ছেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী? নাকি তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোচ্ছেন? এই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর যখন চরমে, ঠিক তখনই এই জল্পনায় আরও বেশি করে ইন্ধন জুগিয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের একটি ফেসবুক পোস্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা সেই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, তাঁদের আইভিএফ সেন্টারে অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদরা। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলা হয়, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জনের অন্ত নেই। অন্যদিকে, এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ স্পষ্ট দাবি করেছেন যে, ভোটের পর থেকেই শশী পাঁজা দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ রাখছেন না। এমনকি দলের কঠিন সময়েও তাঁকে পাশে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এই সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা এবং গুঞ্জনের মাঝেও অন্য একটি তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, শশী পাঁজা এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার পেশাগতভাবে চিকিৎসক এবং দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফার্টিলিটি রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে চিকিৎসাকাজে যুক্ত রয়েছেন। ফলে এই সাক্ষাৎ নিছকই পেশাগত কারণে হতে পারে বলে তাঁদের একাংশের মত। তা সত্ত্বেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের বৈঠক যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। এদিকে এই বিষয়ে শশী পাঁজার নিজস্ব কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সোমবার তাঁর গিরিশ পার্কের বাসভবন কিংবা দলীয় কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তাঁর কন্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন। সবমিলিয়ে, ভোটের পরের এই রাজনৈতিক শূন্যতার মাঝে শশী পাঁজার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঠিক কোন দিকে এগ্রায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা।