‘উদারপন্থী হিন্দু থেকে হঠাৎ জাগরিত হিন্দু কেন?’ সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে বিস্ফোরক দাবি বলিউড কুইনের!

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন প্রখ্যাত বলিউড অভিনেত্রী তথা ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। সম্প্রতি দিল্লির রাজনৈতিক মঞ্চে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর করা বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, এবার তা নতুন মোড় নিয়েছে। বিরোধীরা অভিনেত্রীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তাঁর অতীতের ব্যক্তিগত জীবনধারাকে মিলিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কঙ্গনার পুরোনো কিছু পার্টি করার ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে ব্যাপক ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনার কড়া জবাব দিতে সোমবার নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন ‘কুইন’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
সংসদে যাওয়ার পথে চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে রেকর্ড করা ওই ভিডিও বার্তায় কঙ্গনা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাঁর ব্যক্তিগত ও মতাদর্শগত রূপান্তরের বিষয়টি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। ব্যস্ততার কারণে কিছুটা দেরি হয়ে গেলেও তিনি ভক্ত ও সমালোচকদের উদ্দেশ্যে নিজের মনের ভাব খোলামেলাভাবে ব্যক্ত করতে চেয়েছেন। কঙ্গনার মূলত নিশানায় ছিলেন সেই সমস্ত সমালোচক ও নেটিজেনরা, যাঁরা তাঁর পুরোনো জীবনযাত্রার ফুটেজ সামনে এনে প্রশ্ন তুলছেন যে, কীভাবে একজন আধুনিক জীবন কাটানো তারকা বর্তমান সময়ে এসে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বা রক্ষণশীল মতাদর্শের কথা বলতে পারেন। এই সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়ে অভিনেত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন যে, অতীতের ব্যক্তিগত জীবনধারা বা লাইফস্টাইল কখনোই একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে পরিণত হতে এবং নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে বাধা হতে পারে না।
নিজের অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে কঙ্গনা বলেন যে, একটা সময় তিনি নিজেকে ‘মডারেট হিন্দু’ বা উদারপন্থী হিন্দু বলে মনে করতেন, কিন্তু সময়ের আবর্তে নানা অভিজ্ঞতা ও মানুষের সংস্পর্শে আসার পর আজ তিনি নিজেকে একজন ‘জাগরিত হিন্দু’ হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন। তিনি সোজা ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, দেশের সাধারণ নারীরা বা হিন্দু নারীরা যখন নিজেদের ধর্মকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার বা তাকে খোলামেলাভাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেন তাঁদের সবসময় অযথা সমালোচনার কাঁটায় বিদ্ধ হতে হয়? অভিনেত্রীর মতে, যেকোনো তরুণ-তরুণীর বেড়ে ওঠার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সুদৃঢ় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শ গড়ে ওঠে না। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা ও মতাদর্শ পরিবর্তিত হওয়াই স্বাভাবিক।
ধর্মনিরপেক্ষতা বা বামপন্থী মতাদর্শ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনা জানান যে, এই ধরনের মতাদর্শ গ্রহণ করায় কারো প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই, কারণ দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব বিশ্বাস অনুসরণের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে তাঁর গভীর আক্ষেপ, সমাজের একাংশ কেবল তখনই আপত্তি তোলে বা ভিন্ন চোখে দেখে, যখন কোনো প্রখ্যাত হিন্দু নারী নিজের ধর্ম নিয়ে প্রকাশ্যে সোচ্চার হন। তিনি নিজেকে একজন “সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল হিন্দু” হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, এর আগে তরুণ প্রজন্ম তথা ‘জেন-জি’দের সম্পর্কে একটি আপত্তিকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবুও নিজের মতামত প্রকাশে যে তিনি একচুলও পিছু হটেননি, তা এদিনের এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত।