ভোররাতে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! নিমেষে ভস্মীভূত ৩টি কামরা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শত শত যাত্রী

ভোর তখন ঠিক সাড়ে তিনটে। ট্রেনের ভিতরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন যাত্রীরা হঠাৎই তীব্র গরম এবং আগুনের প্রচণ্ড তাপ অনুভব করতে শুরু করেন। বিহারের সাহারসা জেলার অন্তর্গত সিমরি বখতিয়ারপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর দুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে হঠাৎই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সোমবার ভোরে সমস্তিপুর-সাহারসা রুটের ওই ট্রেনের ইঞ্জিনে প্রথম আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পরপর তিনটি কোচে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রেল আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতে হঠাৎ আগুন লাগার জেরে ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে দ্রুত ট্রেন থেকে নিচে নেমে আসেন যাত্রীরা। খবর পাওয়ামাত্রই দমকলের দুটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। দমকল কর্মীদের দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে যে কামরায় প্রথম আগুন লেগেছিল, সেই ইঞ্জিন-সংলগ্ন কামরাসহ মোট তিনটি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে ছাই হয়ে গেছে। কীভাবে হঠাৎ এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।
প্রাথমিক তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ট্রেনের ইঞ্জিনের কাছাকাছি অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে তা তিনটি কামরাকে গ্রাস করে ফেলে। যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়িতে সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলেও, সৌভাগ্যবশত সকল যাত্রী সময়মতো নিরাপদে ট্রেন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। যে কারণে বড় ধরনের কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনার জেরে ওই রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনের আধিকারিক সঞ্জয় কুমার সজ্জন জানিয়েছেন যে, এই দুর্ঘটনার ফলে কোসি এক্সপ্রেস (সাহারসা-পাটনা), জানকি এক্সপ্রেস (মনিহারী-জয়নগর), সাহারসা-সমস্তিপুর প্যাসেঞ্জার এবং শ্রাবণী স্পেশাল (সাহারসা-দেওঘর)-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ দেরিতে চলাচল করছে। প্রাথমিক তদন্তের পর রেল বিশেষজ্ঞদের অনুমান, শর্ট সার্কিটের কারণেই এই ভয়াবহ আগুন লেগে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেল ও স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি কামরার মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সমস্ত যাত্রীর অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসাকেই সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় বলে মনে করছেন সকলে।