হামিম-অর্পিতার পর এবার জালে আরও এক চর! পুর প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে হানিমুনে ফাঁসানোর ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস!

হামিম ও অর্পিতার গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে জঙ্গি যোগ এবং ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আরও এক চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটল। সোমবার ভোরে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে বেঙ্গল পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ধরা পড়েছে আদিত্য সিং নামের এক ব্যক্তি। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত আদিত্য হল ধৃত হামিম মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে হানিট্র্যাপে ফেলার যে গভীর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল এই আদিত্যর কাঁধেই। সে নাকি নিয়মিত পুর প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি তুলে তা সোজা হামিমকে পাচার করত।
এর আগে ধৃত হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারকে লাগাতার জেরা করার সময়ই এই আদিত্য সিংয়ের নাম তদন্তকারীদের হাতে উঠে আসে। দীর্ঘ নজরদারির পর অবশেষে সোমবার ভোরে তাকে হাওড়া থেকে পাকড়াও করে এসটিএফ। আজই ধৃত আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে এবং তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাবেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এসটিএফ সূত্রে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তান-ভিত্তিক শাহাজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কিছু হ্যান্ডলারের সঙ্গেও আদিত্যের গভীর যোগাযোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে এই আন্তর্জাতিক চক্রের কর্মকাণ্ডে আদিত্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মূলত ভিভিআইপিদের টার্গেট করা, সুপারি দেওয়া এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করার কাজে সে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। হাওড়ার পিলখানা রোড এলাকায় হামিমের একটি গোপন দোকানের সন্ধানও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন যে ওই ব্যবসার প্রকৃত কার্যকলাপ নিয়ে তাঁরা কার্যত অন্ধকারে ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এলাকায় নিজেদের শিকড় শক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতেই ওই দোকানটিকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য এসটিএফের পাশাপাশি দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-ও এই দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে। এই গোটা চক্রের আসল সাংগঠনিক বিস্তার ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তাদের কাছে কোটি কোটি টাকার তহবিলের উৎস কোথায় এবং সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক কতটা শক্তিশালী, তা পরিষ্কার করতেই এই যৌথ জেরা চলছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অনলাইন চ্যাটের ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামিম ও অর্পিতার মধ্যকার কথোপকথন থেকে অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক বার্তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, এই চক্রের মূল পরিকল্পনা ছিল রাজ্যে একটি সুসংগঠিত মহিলা চক্র তৈরি করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন উঠতি মডেল ও আকর্ষণীয় প্রোফাইল ব্যবহার করে মন্ত্রী ও ভিভিআইপিদের পরিবারের সদস্যদের এই হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলার ছক কষা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। আদিত্যকে জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা বাকি মুখগুলোর সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা।