ঘি না মাখন—হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে কোনটি খাবেন? পুষ্টিবিদদের গোপন তথ্য জানলে চোখ কপালে উঠবে!

আমাদের দৈনন্দিন রান্নায় এবং খাদ্যতালিকায় ঘি ও মাখন অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি উপাদান। ছোটবেলা থেকেই পরোটা, রুটি কিংবা ডালে এক চামচ ঘি বা বাটার খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু বর্তমান যুগে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মনে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে—হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য ঘি ও বাটারের মধ্যে কোনটি তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ এবং উপকারী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে নানা তথ্য উঠে এসেছে, যা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে।
ঘি হলো এক ধরনের ক্লারিফাইড বাটার, যা খাঁটি দুধের সর বা মাখন থেকে তৈরি করা হয়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ঘিয়ের ব্যবহার অত্যন্ত প্রাচীন এবং একে বহু গুণের অধিকারী মহৌষধ হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, বাটার বা মাখন সরাসরি দুধের ফ্যাট থেকে প্রস্তুত করা হয়, যাতে ল্যাকটোজ এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, ঘি এবং বাটার উভয়টিতেই প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। তবে ঘিয়ের স্মোক পয়েন্ট বা তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা মাখনের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার সময় ঘি সহজে নষ্ট হয় না এবং এর মধ্যে থাকা পুষ্টিগুণ অটুট থাকে, যা হজম প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, খাঁটি গরুর ঘি পরিমিত পরিমাণে সেবন করলে তা খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না, বরং শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করতে সাহায্য করে। ঘিয়ে রয়েছে বুট্রিক অ্যাসিড, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর বিপরীতে, বাজারে প্রাপ্ত বেশিরভাগ বাটারে অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ বা সোডিয়াম এবং প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক সংযোজিত থাকে, যা রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দিতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাখনের তুলনায় সীমিত পরিমাণে খাঁটি ঘি খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।