সামান্য প্রদাহ থেকেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারণ রোগ! কীভাবে বুঝবেন ও রক্ষা পাবেন?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে প্রায়শই ইনফ্লামেশন বা প্রদাহের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস বা আঘাতের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন সাময়িক প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই প্রদাহ যদি দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক রূপ ধারণ করে, তবে তা শরীরের ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দীর্ঘকাল ধরে প্রদাহ বজায় থাকলে মূলত তিনটি মারাত্মক রোগ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সহ হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী ব্যাধি।

প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সরাসরি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং খুব সহজেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, রক্তনালীতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের কারণে আর্টারির ভেতরে কোলেস্টেরল ও প্লাক জমতে শুরু করে। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক কার্ডিওভাসকুলার রোগের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে কোষে কোষে প্রদাহ চলতে থাকলে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পরবর্তীকালে শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যানসার সেল বা টিউমার বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

এই মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকিগুলো থেকে সুরক্ষিত থাকতে জীবনযাত্রায় কিছু সুনির্দিষ্ট ও স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাট সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। পরিবর্তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর খাবার যেমন তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, হলুদ, আদা, বাদাম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার নিয়মিত খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান এবং মানসিক স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবনযাপন করলেই শরীরকে ক্রনিক ইনফ্লামেশন বা প্রদাহের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।