এই মারাত্মক লক্ষণগুলোকে ভুলেও অবহেলা করবেন না! অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে না তো মারণ ব্রেন টিউমার?

আমাদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ত জীবনে মাঝেমধ্যে শারীরিক অসুস্থতা বা ক্লান্তি অনুভব করা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করার ফলে তা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। ঠিক তেমনি একটি মারাত্মক ব্যাধি হলো ব্রেন টিউমার। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ঘটলে এই জটিল রোগটির সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো অত্যন্ত সাধারণ হওয়ায় অনেকেই একে সর্দি-কাশি, সাধারণ ক্লান্তি বা সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে ভুল করেন। কিন্তু অবহেলা করলেই নেমে আসতে পারে বড় ধরনের বিপদ। তাই ব্রেন টিউমারের কিছু প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রেন টিউমারের অন্যতম প্রধান এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো ক্রমাগত তীব্র মাথা ব্যথা। সাধারণ মাইগ্রেন বা সাইনাসের ব্যথার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, এই ব্যথা সাধারণত সকালের দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক বেশি তীব্র থাকে এবং ধীরে ধীরে সারা দিন ধরে তা বাড়তে থাকে। অনেক সময় কাসলে, হাঁচি দিলে বা হঠাৎ মাথা নাড়ালে এই ব্যথার তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, যদি দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অস্বাভাবিক মাথাব্যথা চলতে থাকে, তবে তা একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
মাথাব্যথার পাশাপাশি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ঘন ঘন বমি পাওয়া বা কোনো কারণ ছাড়াই বমি হয়ে যাওয়া। অনেক সময় ব্রেনের অভ্যন্তরে টিউমারের বৃদ্ধির কারণে ইন্টারক্রেনিয়াল প্রেসার বা মাথার ভেতরের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বমি ভাব বা মাথা ঘোরার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, কোনো বস্তুকে একটির পরিবর্তে দুটি দেখা বা পেরিফেরাল ভিশন কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।
রোগী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিক মাত্রায় স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, কথায় জড়িয়ে যাওয়া, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে চরম অসুবিধা হওয়া, ব্যক্তিত্বে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন আসা এবং কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ বা বিষণ্ণতা। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শরীরের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশে আকস্মিক দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব হতে পারে, যা স্ট্রোকের লক্ষণ বলে ভুল হতে পারে। এ ছাড়া কোনো পূর্ব ইতিহাস ছাড়াই হঠাৎ করে খিঁচুনি বা এপিলেপ্টিক অ্যাটাক হওয়া ব্রেন টিউমারের অন্যতম একটি বড় ও গুরুতর সতর্কবার্তা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শরীরে এই ধরনের কোনো লক্ষণ দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী হলে তা মোটেও এড়িয়ে চলা উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব একজন অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই (MRI) করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের সঠিক অবস্থা নির্ণয় করা প্রয়োজন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে ব্রেন টিউমারের মতো মারাত্মক মারণ রোগকেও সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে।