অতিরিক্ত প্রোটিন খেয়ে শরীর ধ্বংস করছেন না তো? পুষ্টিবিদদের গোপন ও ভয়ঙ্কর তথ্য জানলে চোখ কপালে উঠবে!

আধুনিক ফিটনেস সচেতন সমাজে এবং জিম সংস্কৃতিতে প্রোটিন যেন স্বাস্থ্যের এক নতুন প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে। পেশী গঠন, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে প্রোটিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য হওয়ায় আজকাল অনেকেই অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট, প্রোটিন বার ও আমিষ খাবার গ্রহণ করছেন। কিন্তু পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকদের মতে, শরীরের প্রয়োজনকে ছাপিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। যেকোনো ভালো জিনিসেরই যেমন একটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে, তেমনই শরীরের সঠিক বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমের জন্য প্রোটিনের একটি সুনির্দিষ্ট দৈনিক চাহিদা রয়েছে। সেই মাত্রা অতিক্রম করলেই শরীরে শুরু হয় নানা জটিল রোগ ও বিপত্তি।

অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার ফলে মানবদেহে যে সমস্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয় কিডনির ওপর। আমাদের শরীরে পরিমিত পরিমাণের অতিরিক্ত যে প্রোটিন প্রবেশ করে, তা প্রক্রিয়াজাত ও নিষ্কাশন করার জন্য কিডনিকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং নেফ্রন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া এর ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে গেঁটেবাত বা জয়েন্ট পেইন, কন্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হজমের তীব্র সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি তৈরি হয়, যা ত্বকের দীপ্তি কেড়ে নেয় এবং ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই শরীরের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।