রাম মন্দিরে অনুদান চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস! পুলিশকে জানানোর আগেই কি টাকা উদ্ধার করে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল ট্রাস্ট?

রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় বর্তমানে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। তবে এই জালিয়াতি ও গরমিলের কথা সাধারণ মানুষ বা পুলিশ জানার বহু আগেই জেনে গিয়েছিল মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট! শুধু তা-ই নয়, ঘটনাটি নিজেদের উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত টাকা উদ্ধারও করা হয়। সম্প্রতি পদত্যাগী ট্রাস্ট প্রধান চম্পত রাইয়ের একটি বিস্ফোরক চিঠিতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করার ঠিক দু’দিন আগে ট্রাস্টের উদ্দেশে এই ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন চম্পত রাই। চিঠিতে তিনি পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন যে, গত ৪ জুন রাতেই কয়েকজন ট্রাস্টি প্রথম বুঝতে পারেন যে মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা গোনার সময় মারাত্মক গোলমাল হচ্ছে। কিছু অসাধু যুবক এই কারচুপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে কর্তৃপক্ষ পরের দিনই সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন এবং তাদের ওপর জোর চাপ সৃষ্টি করে চুরি যাওয়া সমস্ত টাকা ফেরত নেন। এমনকি গত ৮ জুনের মধ্যেই অভিযুক্তরা সেই টাকা ফিরিয়েও দেয় বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পরেই স্বাভাবিকভাবে তীব্র বিতর্ক ও একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, অপরাধ সম্পূর্ণ জানাজানি হওয়ার পরও এবং টাকা উদ্ধারের পরও কেন সেই মুহূর্তে বিষয়টি পুলিশের কাছে জানানো হলো না? ট্রাস্ট কি তবে সচেতনভাবে সত্যিটা আড়াল করার চেষ্টা করেছিল? চিঠিতে চম্পত রাইয়ের দেওয়া যুক্তি অনুযায়ী, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁরা পুলিশের কাছে যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে এবং জনমানসে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, তখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ট্রাস্ট নিজেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আবেদন জানায়।

বর্তমানে ট্রাস্টের সেই জোরালো আর্জির ভিত্তিতেই উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ করবে। সর্বোচ্চ আদালত এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত তদন্তের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।